টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে অরক্ষিত রেলপথ, বাড়ছে দূর্ঘটনা

চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট অবৈধ রেলক্রসিং

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Rel-Crosingচট্টগ্রাম, ২০ জুন (সিটিজি টাইমস):: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল রুটের মিরসরাইয়ের ৩০ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিত রেললাইন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে ট্রেন। অরক্ষিত এই রেলপথের মধ্যে অত্যধিক ঝুকিপূর্ণ অর্ধশত রেলক্রসিং। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না ।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে প্রায় অর্ধশত রেলক্রসিং গড়ে উঠেছে। চোরাকারবারিরা চোরাই কাঠ ও পণ্য পরিবহনের জন্য অবাধে ব্যবহার করছে। রেলক্রসিংগুলো বন্ধে রেলওয়ে কর্মকর্তারা একাধিকবার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তা কার্যকর হয়নি। মিরসরাইয়ের চিনকী আস্তানা স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ছয়টি রেলক্রসিং রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে উপজেলায় গড়ে উঠেছে আরও ৫০টি অবৈধ রেলক্রসিং। নিরাপদ ও সংশ্লিষ্ট কাজের উপযুক্ত স্থান বিবেচনা করে এসব রেলক্রসিংগুলো চোরাকারবারিরা গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব রেলক্রসিং গড়ে উঠলেও এখনও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এছাড়া রেল ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান না থাকায় সড়কে চলাচল করা রিক্সা, সিএনজি ও মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

জানা যায়, অবৈধ রেল ক্রসিং দিয়ে পাশ্ববর্তি দেশ ভারত ও ফটিকছড়ি, রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পাচারকৃত পণ্য বহন করার জন্য অবৈধভাবে এসব রেলক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ওইসব ক্রসিং দিয়ে সাধারণ গাড়ি যাতায়াত করলেও এ পর্যন্ত কোন রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রেলওয়ে অনুমোদিত ছয়টি ক্রসিংও রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিনকী আস্তানা স্টেশনে নিয়োজিত এক রেলওয়ের কর্মকর্তা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫০টি অবৈধ রেলক্রসিং রয়েছে। বিভিন্ন সময় চোরাকারবারিদের প্রতিরোধের জন্য এসব রেলক্রসিং খুঁটি দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও তা বেশিদিন টেকে না।

এদিকে রুটের বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিত রয়েছে রেল লাইন। উপজেলার বারইয়াহাট পৌর এলাকায় গত এক দশক ধরেই রেল লাইনের উপর বাজার বসে আসছে। গত ৫ বছরে বিভিন্ন সময় এই বাজার এলাকায় ট্রেন চাপা পড়ে মারা গেছে অন্তত ১০ জন। কিন্তু এখনো সেখানে রেললাইনের ওপর বাজার বসে।

এছাড়া ঢাকা – চট্টগ্রাম রেল রুটের চট্টগ্রাম অংশের মিরসরাইয়ের ফটিকছড়ি সংযোগ সড়ক এর রেল ক্রসিং, বড়তাকিয়া ষ্টেশন নিকটবর্তি ক্রসিং, বারইয়াহাট চিনকি আস্তানা রেল ক্রসিং, নিজামপুর, খৈয়াছরা, বারৈয়াঢালা ক্রসিং সহ অন্তত ৩০টি ক্রসিং এলাকায় রেল কর্তৃপক্ষ ‘এটি অবৈধ রাস্তা, এখানে কোন প্রকার দূর্ঘটনার জন্য রেল বিভাগ দায়ী নয়’ লিখে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

একাধিক ট্রেনচালক জানান,সারাদেশে এমন বহু অনুমোদিত রেলক্রসিং আছে যেগুলোর রাস্তা দিয়ে দিনে-রাতে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে । ট্রেন আসার সিগন্যাল দেয়ার পরও সেসব ক্রসিংয়ের দায়িত্ব পালন করে না । এতে করে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। একজন এলএম নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিহ্নিত কিছু এলাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটত যদি চালকরা সচেতন না হতো । ওই সব এলাকাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ধরেই চালক ট্রেনের গতি কমিয়ে সাবধানতার এড়ানো সম্বব হয় ।

এই বিষয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেল ম্যানেজার মকবুল আলম চৌধুরী এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ ক্রসিং গুলো আমরা শীঘ্রই মনিটরিং করবো এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবো। তিনি আরো বলেন সর্বস্তরের নাগরিকদের রেল আইন সম্পর্কে অবহিত করার চেষ্টা ও চলছে। প্রয়োজনের চেয়ে জনবল কম থাকায় নিয়মিত তা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত