টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অস্ত্র মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রনির বিরুদ্ধে চার্জশিট

চট্টগ্রাম, ১৯ জুন (সিটিজি টাইমস):: ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সময় গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে করা অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

রবিবার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন।

৭ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলসমর্থিত সংগঠনের ছাত্রলীগের এই নেতাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করে পুলিশ। দুই মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন।

অভিযোগপত্রে শুধুমাত্র নূরুল আজিম রনিকে আসামি করা হয়েছে এবং ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো.মশিউর রহমান।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগপত্রটি জেলা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) দেলোয়ার হোসেন। রবিবার সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ৭ মে আটকের পর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন নির্বাচনে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশিদ। এছাড়া অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।

গত ২৫ মে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলায় রনিকে জামিন দেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তবে অস্ত্র মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।

এরপর রনির পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হলে গত ১৩ জুন ছয় মাসের জন্য জামিন দেন আদালত।

তবে জামিন আদেশ এখনো চট্টগ্রাম কারাগারে এসে পৌঁছেনি।

নূরুল আজিম রনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট রনি কুমার দে বলেন, যেহেতু জামিন আদেশ আসার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে সেক্ষেত্রে রনির মুক্ত হবার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আবারো জামিনের আবেদন করতে হবে।

গত ৭ মে আটকের সময় রনির কাছে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমে তথ্য দিয়েছিল বিজিবি।

এসময় রনিসহ নয়জনকে আটক করা হলেও অস্ত্র মামলায় শুধুমাত্র রনিকেই আসামি করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত রনিকে আটকের সময় পাঞ্জাবির কলার ধরে টানা-হেঁচড়া ও শারীরিক লাঞ্ছনার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার দিন।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রনির মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে ছাত্রলীগ।

নূরুল আজিম রনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত