টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

খিলগাঁওয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবক অভিজিৎ হত্যার আসামি

shorifচট্টগ্রাম, ১৯ জুন (সিটিজি টাইমস)::মাদারীপুরের সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার আসামি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার একদিন পরই একইভাবে নিহত হয়েছেন লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতমাসে পুলিশ যে ছয়জনের ছবি প্রকাশ করেছিল তাদের একজন।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর খিলাগাঁও মেরাদিয়ার বাঁশপট্টি এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল ভোররাতেই। তবে তিনি যে ওই ছয়জনের একজন তা জানা যায় পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালেদের কথায়।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

বন্দুকযুদ্ধে নিহতের নাম শরীফ। পুলিশ বলছে, তিনি অভিজিৎ হত্যা মামলার ‘প্রাইমারি একিউজড’ ছিলেন।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ বই মেলায় অংশ নিতে ওই মাসেই স্ত্রীকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস পর ওই হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি এসেছিল আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) নামে।

শরীফের সম্পর্কে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল পুলিশ।

মে মাসে ছবি প্রকাশ করার সময় পুলিশ শরীফের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছিল সেখানে দেখা যায়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ নামে পরিচিত। টিএসসিতে অভিজিৎ রায় হত্যা, গোড়ানে নীলাদ্রী নীলয় হত্যা, লালমাটিয়ায় আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা এবং সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যা মামলার তদন্তে তার সরাসরি উপস্থিতি ও সার্বিক নের্তৃত্ব প্রদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি ডিবি পুলিশের।

এছাড়াও শরিফুল ও জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, তেজগাঁও এ ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা এবং গত দুই মাসে সূত্রাপুরে সংগঠিত ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে জানা যায়। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়ে।

শরীফুলের বাড়ি বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেশনের সদস্য নির্বাচন ও সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তার সমন্ধে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরুস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

ছবি প্রকাশিত সন্দেহভাজন ছয় জঙ্গির মধ্যে সিহাবকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মতামত