টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ফতোয়ায় ৯৩২০ নারী আলেমের স্বাক্ষর

fচট্টগ্রাম, ১৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: এক লাখ মুফতি, আলেম-ওলামার স্বাক্ষর সম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল ওলামা নামে একটি সংগঠন।

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই ফতোয়া প্রকাশ করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাঁয়ের প্রধান ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

তিনি বলেন, সর্বসম্মতভাবে এক লাখ আলেম ও মুফতিরা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলাকে হারাম বলে আখ্যা দিয়েছেন।

নারী আলেমরাও ফতোয়ায় অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ব্যবস্থাপনায় গৃহীত ‘এক লাখ মুফতি, উলামা ও আইম্মাহর দস্তখত সম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে এই শান্তির ফতোয়া।

উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই ফতোয়া প্রকাশিত হলে সন্ত্রাস পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং সন্ত্রাসের মদদদাতারা হতোদ্যম হবে।

মাওলানা মাসউদ বলেন, রাজধানীর চৌধুরীপাড়ায় জামিয়া ইক্বরা বাংলাদেশ মাদরাসায় এ নিয়ে চলে প্রস্তুতি। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে মোট ১,০১,৮৫০ জন আলেম ও মুফতির স্বাক্ষর সম্বলিত ফতোয়ার ৩০ খণ্ড বাইন্ডিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে ৯২,৫৩০ পুরুষ আলেম-মুফতি এবং ৯,৩২০ জন নারী আলেম-মুফতি।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য আলেমরা হচ্ছেন, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী, মুফতি আবদুল হালিম বোখারী, মুফতি মনসুরুল হক, আল্লামা সুলান জওক নদভী, আল্লামা আবদুর রহমান হাফেজ্জী অন্যতম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর নামে ভাগ করে ২৬টি এবং শুধু নারী আলেমদের স্বাক্ষরে ৪টি খণ্ড তৈরি হয়েছে। সব খণ্ডেই জঙ্গিবাদ নিয়ে মূল ফতোয়ার সঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দ, মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া, শায়খ জাকারিয়া রিসার্চ সেন্টার ও জামিয়াতুল আসআদ মাদরাসার ফতোয়াও সংযুক্ত করা হয়েছে। সংযুক্ত প্রত্যেকটি ফতোয়াতেই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে হারাম বলা হয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বাধীন ‘এক লাখ আলিম, মুফতি, ইমামগণের ফতোয়া ও দস্তখত সংগ্রহ কমিটি’র উদ্যোগে গত ৩ জানুয়ারি থেকে এই ফতোয়া স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়। শেষ হয় ৩১ মে।

১১ সদস্যের কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- আবদুর রহিম কাসেমী- সদস্য সচিব, সদরুদ্দীন মাকুনুন – যুগ্ম সদস্য সচিব, এছাড়া সদস্য- আল্লামা আলীম উদ্দীন দুর্লভপুরী, হোসাইন আহমদ, দেলোয়ার হোসাইন সাঈফী, ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, আইয়ুব আনসারী, ইব্রাহিম শিলাস্থানী, আবদুল কাইয়ুম খান, যাকারিয়া নোমান ফয়জী।

ফতোয়ায় যা বলা হয়েছে:
‘ইস্তিফতা ও এর উত্তর’ শীর্ষক অধ্যায় দিয়ে ফতোয়াটি দেয়া হয়েছে। সূরা তওবার কয়েকটি আয়াত এবং বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি হাদিসকে প্রেক্ষিত ধরে ফতোয়ায় ১০টি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে।

ওই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই ইসলামের ব্যাখ্যাসম্বলিত মূল ফতোয়াটি বর্ণিত হয়েছে। এরপর কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফের দলিলের ভিত্তিতে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, জিহাদ ও সন্ত্রাস একই জিনিস নয়। জিহাদ হলো ইসলামের অন্যতম একটা নির্দেশ, পক্ষান্তরে সন্ত্রাস হলো হারাম ও অবৈধ। ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘আত্মহত্যা ও আত্মঘাত ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘ইসলামে নিরাপরাধ মানুষদের গণহারে হত্যা বৈধ নয়। এমনকি সন্দেহের বশবর্তী হয়েও কাউকে হত্যা করা নিষেধ। ৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা আছে, মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমকে যদি কেউ হত্যা করে সে বেহেশতের গন্ধও পাবে না।

অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও অবৈধ। এটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধারাবাহিকভাবে এভাবেই ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে কোরআন শরিফের আয়াত ও হাদিস দিয়ে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত