টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিমি সুপার মার্কেটে এক লেহেঙ্গায় লাভ ১৭ হাজার টাকা!

ctg-mobile-courtচট্টগ্রাম, ১৬ জুন (সিটিজি টাইমস)::  বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে নগরীর অন্যতম অভিজাত শপিং মল মিমি সুপারের মার্কেটে ‘ইয়ং লেডি’তে সাত হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করা একটি লেহেঙ্গায় বিক্রয়মূল্য ২৪ হাজার টাকা বসানোর প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া আরেক অভিজাত শপিং মল আফমি প্লাজার ‘সুরুচি কালেকশনে’ সাড়ে ৭ হাজার টাকার একটি ফ্রকে ১২ হাজার টাকা দাম বসানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে এমন চিত্রই দেখতে পান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান।

এ সময় শিক্ষানবিস নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়স মোদার আলী ও তানিয়া মুন, ক্যাবের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস, সদরঘাট থানার ক্যাব সভাপতি এএম তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি মো. মোকাম্মেল হক খান, বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা মানছেন না, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে কাপড়ের মার্কেটে গত দুই দিন ধরে চলা অভিযানে। অভিযানে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীকে ক্রয়কৃত পণ্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে পণ্য বিক্রয় করতে দেখা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্বীকার করে ব্যবসায়ীরা দোষ শিকার করায় সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীদের কোনো জরিমানা বা দণ্ড দেওয়া না হলেও পরবর্তী সময়ে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তাহমিলুর জানান, মিমি সুপার মার্কেটের ‘ইয়াং লেডি’ দোকানে গিয়ে দেখা যার মেয়েদের ফ্লোর টাচ নামক এক ড্রেসের দাম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এ ড্রেসটির প্রকৃত ক্রয়মূল্য ৬ হাজার ৯৯৫ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কাপড়ে লাভ ১২ হাজার ৫০৫ টাকা! দোকানটির আরেকটি কাপড়ের ক্রয়মূল্য ছিলো ৪ হাজার ৫৫০ টাকা। কিন্তু বিক্রয়মূল্য ছিলো ১৪ হাজার ৫০০ টাকা।

তিনি জানান, অভিযানে অনেক প্রতিষ্ঠানে নগরীর থান কাপড়ের জন্য বিখ্যাত টেরি বাজার থেকে কাপড় কিনে তা ভারত থেকে আমদানি করেছে বলে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে দাম নির্ধারণ করেন ক্রয়কৃত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কাপড় বিক্রির নামে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এক প্রকারের ডাকাতি করছেন।

প্রতিটি মার্কেটের দোকানে কাপড়ের ক্রয় মূল্যের রশিদ দোকানে রাখতে হবে। সেইসঙ্গে ক্রেতাকে বিক্রির রশিদ দিতে হবে- উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানে ক্রয় মূল্যের রশিদ সংরক্ষণ করা, সকল প্রকার বিক্রয়ে ক্রেতাদের রশিদ দেওয়া, ক্রেতাদের সাথে ভালো ব্যবহার করাসহ চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে নগরীতে অপর এক অভিযানে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় ও ওজনে কারচুপির অপরাধে চার ব্যবসায়ীকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি, তাহমিদা আক্তার ও আবদুস সামাদ শিকদার।

অন্যদিকে পোড়া তেলে পোকায় খাওয়া বেগুন দিয়ে বেগুনি তৈরির অপরাধে নগরীর চকবাজার থানার লালচাঁদ রোডের খাজা ভাতঘর এবং চিটাগাং সুইটসকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত