টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবৈধ বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Dhaka-Ctg-Billbordচট্টগ্রাম, ১৫ জুন (সিটিজি টাইমস):: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢাকা পড়েছে অবৈধ বিলবোর্ডে। সড়ক মন্ত্রীর ঘোষণার পরও তা অপসারণ বা উচ্ছেদ হয়নি। পৌরসভা, সড়ক ও জনপদের (সওজ) জায়গা দখল করে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে বিলবোর্ডগুলো।

মহাসড়কে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার উত্তরের ধুমঘাট সেতু থেকে দক্ষিণের বড় দারোগারহাট (উত্তর বাজার) পর্যন্ত দুই ধারে মোট ৫৪টি বিলবোর্ড রয়েছে। মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা এবং সওজের কাছে নেই বৈধ বিলবোর্ডের তালিকা। বিলবোর্ডগুলো বিভিন্ন অসাধু বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিকরা সওজ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে স্থাপন করেছেন।

সরেজমিনে মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে ছোট-বড় ১৫টি বিলবোর্ড রয়েছে, যার অধিকাংশই মহাসড়কের পাশে। পৌর বাজারের ট্রাফিক মোড়ের পূর্ব পাশে দেখা যায় একটি বিপণি বিতানের ছাদ ও দেয়াল দখল করে বড় বড় দুটি বিলবোর্ড স্থাপন করেছে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। এতে বিপণি বিতানের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা বেশ ক্ষুব্ধ।

বারইয়ারহাট পৌরসভার কর কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাঁচটি বিলবোর্ড পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেই স্থাপন করেছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা। বাকি বিলবোর্ডগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে।’ এগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এসব উচ্ছেদের উদ্যোগ নিচ্ছি।’

বারইয়ারহাট পৌর এলাকা পার হয়ে মহাসড়কের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় থেকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মিঠাছড়া বাজার পর্যন্ত দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে বিশাল আকারের সাতটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যার সব কটি দখল করা হয়েছে সওজের জায়গা। মিঠাছড়া থেকে মিরসরাই পৌরসভা পর্যন্ত মেলে আরো সাতটি বিলবোর্ড, যা স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে এবং মহাসড়কের পাশের কৃষিজমিতে।

এ বিষয়ে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘সম্ভবত আগের মেয়র এগুলো স্থাপনে অনুমতি দিয়েছেন।’

মিরসরাই সদর পার হয়ে বড়তাকিয়া বাজার, নয়দুয়ারীয়া, হাদিফকিরহাট, নিজামপুর, ডাকঘর, ছোটকমলদহ ও বড় দারোগারহাট এলাকায় ছোট-বড় মিলে ২৫টি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সওজের জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। বাকিগুলো বাজারের বিভিন্ন বাণিজ্যিক-আবাসিক ভবনের ছাদ ও কৃষিজমিতে।

স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রাম নগরীতে বিলবোর্ড উচ্ছেদ শুরু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কে বিলবোর্ড স্থাপন বেড়ে গেছে। যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে এমনভাবে বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে, যাতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সওজ বা পৌরসভা অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর জানুয়ারিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক-মহাসড়কের পাশ থেকে বিলবোর্ড, অপ্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সে সময় মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ থেকে উচ্ছেদ অভিযানও শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তা থেমে যায়।

এ বিষয়ে সওজ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র ধর বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকা চার লেন স¤প্রসারণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তত্ত¡বাবধানে আছে। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।’

চার লেন স¤প্রসারণ প্রকল্পের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক অরুণ আলো চাকমা বলেন, ‘বছরখানেক আগে সীতাকুন্ড-মিরসরাই এলাকায় সওজের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপিত বেশ কিছু বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়।’ বর্তমানে সওজের জায়গায় অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে স্বীকার করে অরুণ আলো বলেন, ‘এগুলো উচ্ছেদেও আমাদের উদ্যোগ রয়েছে। খুব শিগগির উচ্ছেদ করা হবে।’

মতামত