টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়: মেয়র নাছিরকে পাঠানো ইউজিস’র চিঠি বাতিল

চট্টগ্রাম, ১৪ জুন (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও ট্রাস্ট ডিড রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত বিষয়ে পাঠানো চিঠি বাতিল করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

মঙ্গলবার প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমকে পাঠানো এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পত্রে জানানো হয়, গত বছরের ১৪ জুন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও ট্রাস্ট ডিড রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে আদালত শোকজ নোটিশসহ নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারী করেন।

গত ১২ জুন শুনানি শেষে আদালত মহিউদ্দিন চৌধুরীর দায়ের রিট পিটিশনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন। শুনানিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি এবং ব্যারিস্টার একে আজাদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এসময় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস আদালতকে বাদি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক ২০০১ সালের ৫ মে শিক্ষা সচিব বরাবর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ এর অধীনে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন পত্র দেখান। যেখানে উদ্যোক্তা হিসাবে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ আছে।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস আদালতকে আরো জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ৫ ডিসেম্বর এক পত্রের মাধ্যমে উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্মতির কথা জানান। তার অন্যতম শর্তের একটি হল সিটি করপোরেশনের সাথে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক থাকবে না। এর আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী উদ্যোক্তা হিসাবে এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ২০০১ সালের ১১ জুন রূপালী ব্যাংকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি এফডিআর একাউন্ট খোলেন যা ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদপত্রে উল্লেখ আছে।

তিনি আরো জানানম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সম্মতি পত্রের পর উদ্যোক্তা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি অঙ্গীকার নামা দাখিল করেন। অঙ্গীকার নামা দাখিলের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০২ সালের ২১ জানুয়ারি এক পত্রে সাময়িক অনুমতি প্রদান করেন। সাময়িক অনুমতি পত্রেও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্যোক্তা হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস আদালতকে জানান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর হতে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং প্রতিটি স্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাজার মূল্যে সিটি করপোরেশনকে ভাড়াসহ এর হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করেছে। প্রকৃতপক্ষে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিমাণ অর্থ সিটি করপোরেশনকে দিয়েছে, সেই মূলে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সিটি করপোরেশন থেকে ১৪ কোটি টাকা পাবে (প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত অডিটের হিসেব অনুসারে)।

এদিকে সিটি করপোরেশন কর্তৃক দাখিলকৃত জবাবে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের পক্ষে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন সময়ে ২০০১ সালের ১৪ আগষ্ট একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানের জন্য একটি আবেদন পত্র দাখিল করেন। যেখানে উদ্যোক্তা হিসাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে দেখানো হয়েছে।

জবাবে ব্যারিস্টার তাপস ২০০১ সালের ৫ আগষ্ট মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় উপর সরজমিনে পরিচালিত পরিদর্শন রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করেন প্রশ্ন করেন, সিটি করপোরেশন উদ্যোক্তা হিসাবে ২০০১ সালের ১৪ আগষ্ট বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করছে অথচ মঞ্জুরী কমিশন সেই আবেদনের আট দিন আগে ২০০১ সালের ৫ আগষ্ট কিভাবে পরিদর্শন রিপোর্ট দাখিল করেছে।

শুনানীর এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার তাপস আদালতকে মঞ্জুরী কমিশন আইন ১৯৭৩ আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন। যেখানে মঞ্জুরী কমিশন আইন ১৯৭৩ এর ৬ ধারা অনুসারে কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলীতে ট্রাস্ট দলিল নিবন্ধন করণ এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টি গঠন সংক্রান্ত দেখভালের কোন ক্ষমতা কমিশনকে প্রদান করা হয়নি।

ব্যারিস্টার তাপসের এই প্রশ্নে, মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণ কমিশনের আইনজীবী এডভোকেট মো. বায়েজিদকে কোন ক্ষমতা বলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে কমিশন বোর্ড অফ ট্রাষ্টি গঠন করার পত্র প্রেরণ করেছেন তা জানতে চান। এড. বায়েজিদ সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে আদালতের কাছে এক সপ্তাহের সময় চান যেন মঞ্জুরী কমিশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাষ্টি গঠন করার জন্য যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন তা বাতিল করতে পারেন। এই প্রেক্ষিতে মঞ্জুরী কমিশন ২০১৬ সালের ৩০ মে ইস্যুকৃত এক পত্রে চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ইস্যুকৃত পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।

পরে ব্যারিস্টার তাপস আদালতে কমিশন কর্তৃক ২০১৬ সালের ৩০ মে’র পত্রটি পড়ে শোনান। এসময় আদালত কমিশনের আইনজীবী এড. বায়েজিদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে এড. বায়েজিদ আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন যেন কমিশনের ২০১৫ সালের ১৪ জুলাইয়ের পত্রটি বাতিল করে মেয়র আ জ ম নাছিরকে প্রেরণ করা যায়। এর প্রেক্ষিতে আদালত সময় মঞ্জুর করেন।

গত ১২ জুন এড. বায়েজিদ এক আবেদন পত্রে কমিশন কর্তৃক গত ৬ জুন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে লেখা একটি পত্র দাখিল করেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘উপযুক্ত বিষয়ে আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, কমিশন কর্তৃক ১৪/৭/২০১৫ তারিখের প্রেরিত পত্র যার স্মারক নং ইউজিসি/বে:ঢ়বি:/ ৬৯১/মনিটরিং/২০১৫/৪৭০৩ ভুল সম্বোধন করে লেখার প্রেক্ষিতে উক্ত পত্রটি এতদ্বারা বাতিল করা হলো।’

এই বাতিল আদেশের ফলে কমিশন আদালতের কাছে এটি স্পষ্ট করেছেন যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই প্রেরিত পত্রটি ছিল তাদের ভুল সিদ্ধান্ত এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাথে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক নেই।

মতামত