টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে বেপরোয়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসায়ীরা

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১০ জুন (সিটিজি টাইমস):: সার্বক্ষনিক মনিটরিং না থাকায় ক্রেতা সাধারনের নাগালের বাইরে চলে গেছে পন্যমূল্য। পন্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বর্তমান দরের চাইতে পুর্বের দরে বিশাল অংকের পারাক তৈরী হওয়ায় বাজারের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ক্রেতারা। তবে এর জন্য আড়তদারদের দায়ী করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

সীতাকুণ্ড খুচারা বিক্রেতারা বলেন, আড়তদাররা যে দামে পন্য বিক্রি করছে, তার থেকে ২-৩ টাকা লাভে সে পন্য ক্রেতার নিকট বিক্রি করে থাকি। রোজার দুই দিন আগেও প্রতি কেজি শসা বিক্রি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, কাকরাল ২০-২৫টাকা, প্রতি পিচ কদু ১০-১৫ টাকা, কচুর ছরা ৩০-৩৫টাকা, বেগুন ১৫-২০ টাকা, ছোলা ৪০-৪৫ টাকা, চিনি ৪০-৪৫ টাকা, পিয়াছ ২০-২২টাকা, খেজুর ৫০-৬০ টাকা, মুরগী ৯০-১০০টাকা। অথচ রোজার প্রথম দিন থেকে আড়তদাররা প্রতিটি পন্যে কেজি প্রতি ২০-৩০ বৃদ্ধি করে দেয়ায় ক্রয় করা পন্য ২-৩ টাকা লাভে বিক্রি করা হচ্ছে ক্রেতার নিকট বিক্রি করছে বলে জানান তারা।

সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পন্য মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি শসা মূল্য ৪০-৫০ টাকা, মারফা ৫০-৬০ টাকা, কাকরাল ৪০-৫০ টাকা, কদু প্রতি পিচ ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, পিয়াছ ২৫-৩০টাকা, ছোলা ৯০-১০০ টাকা, মুরগী ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ বাজারে পন্য মূল্য হুহু করে ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্রেতরা। যে ক্রেতা এক কেজি পন্য কিনতে এসেছে, তাকে কিনতে হচ্ছে আধা কেজি বা তারও কম। বাজারের পন্যর দাম বেড়ে[ যাওয়ায় রোজার সময় ভাল খাওয়ার ইচ্ছে থাকার পরও অর্থভাবে ক্রয় করতে পারছে সাদের পন্যটি।

এদিকে আড়তদার ও মজুদারদের কারণে বাজারে পন্যমূল্য বেসামাল হয়ে পড়লেও বাজার মনিটরিং সেলের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সর্ব সাধারণ্। আর এ সুযোগে রোজার শুরুতে পাইকারী ব্যবসায়ী ও স্ববজী ভান্ডারের মালিকরা রোজার পূর্বে মজুদ করা পন্যর দাম বাড়িয়ে বিক্রি চলছে। সে সাথে এসব ব্যবসায়ীরা পন্য মজুদ রেখে বাজারে পন্যর কৃত্তিম সংকট তৈরী করে চলছে বলে জানান ক্রেতারা। এছাড়া পন্য মূল্যর বোর্ড রাখার নিয়ম থাকলেও ক্রেতার চোখ ফাঁকি দিতে তা রাখার প্রয়োজন মনে করছে না ব্যবসায়ীরা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রীতি স্টোর,বেলাল স্টোর, বুলবুল স্টোরের গোড়াউনে মজুদ রয়েছে শত শত বস্তার চিনি,ছোলা, খেজুর, পিয়াছসহ একাধিক পন্য। যা রোজার আগে থেকে সোবাহান বাগ, নামার বাজারসহ কয়েকটি স্থানে অবস্থিত গোড়াউনে মজুদ রাখা হয়েছে। এসব মজুদ পন্য বিক্রির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয় করে চলছে ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারের বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রশাসনকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে জানাযায়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভ’মি মাহবুব আলম জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে। খূব শিঘ্রয় পূনরায় অভিযান চালিয়ে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টিকারী ও দামবৃদ্ধিকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

মতামত