টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশের অগ্রগতিতে জাপান টাইমসের বিস্ময়

japanচট্টগ্রাম, ০৯ জুন (সিটিজি টাইমস)::  মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পেলেও, দেশ হিসাবে বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে তখনও সংশয় ছিল আন্তর্জাতিক মহলে। অনেক পর্যবেক্ষক তো বলেই দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ শেষ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়নি বীর বাঙালী।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সেই চিরন্তন বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করেছে। আসলেই বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।এমনটি মানছে বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র জাপান।জাপান টাইমসের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়নে অবাক বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শীর্ষ দেশ জাপান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে ‘জাপান টাইমস’ এক নিবন্ধের মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের লাবণ্যের রহস্য, অগ্রসরের নেপথ্য, উন্নয়নের উৎস ধারা ইত্যাদি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনমুখী উন্নয়ন মডেলে আমরা জনগণকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করেছি। আজ আমাদের দেশের উন্নয়নে ১৫ থেকে ৬৪ বছরের ১০ কোটি ৫ লাখ মানুষ সরাসরি অবদান রাখছে। এটা মোট জনসংখ্যার ৬৫.৬২ শতাংশ। আমাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তরুণ সমাজ’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নকে ধ্রুব নক্ষত্র করে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।ফলও মিলছে। ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৪৩ ডলার। সেটা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার। দেশজ উৎপাদন ৬.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৫ শতাংশের কাছাকাছি। দেশের সম্পদ ব্যবহার করেই এসেছে এই উন্নয়ন।

বিনিয়োগ ব্যবস্থার উদারতায় বিদেশি বিনিয়োগও রয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই-এর ঝুঁকি একেবারেই কম। শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের আনুমতি আছে। যেখানে অবাধ প্রস্থান নীতি, লভ্যাংশ সহজে দেশে পাঠান, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্যের নিশ্চয়তা রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো শিল্পোন্নয়নের জন্য একান্ত জরুরি। বিদ্যুতের উৎপাদন তিনগুণ বেড়ে পাঁচ বছরে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।চট্টগ্রাম, মংলা সমুদ্র বন্দরের ক্ষমতা বাড়ছে। দেশের টাকায় ৩০০ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে পদ্মা সেতু। পায়রা আর কক্সবাজারের মাতাবাড়িতে ৫টি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা। ৩৩টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নয়নের কাজ এক বছরে শেষ হবে। এ সব অঞ্চলে ১৪ বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

শেখ হাসিনার দৃপ্ত ঘোষণা, “২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। তার ২০ বছর পর উন্নত দেশ। আমি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। সেই শক্তিতে বিশ্বে সবার সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করতে চাই। শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধতর বিশ্বই আমার লক্ষ্য।”

মতামত