টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় খাদ্য কর্মকতার ধান সংগ্রহে অনীহা : ক্ষতির মুখে কৃষকরা

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৯ জুন (সিটিজি টাইমস):: গত ১৫ মে থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া খাদ্য কর্মকর্তার ধান সংগ্রহে অনীহা দেখা গেছে। ধান পরীক্ষা করে মান সম্মত ধান না পাওয়ায় ধান নেয়া যাচ্ছেনা বলে জানালেন এ খাদ্য কর্মকর্তা। তবে কৃষকদের অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ধান না নেয়ায় ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষকরা। খাদ্য সংগ্রহে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার ধীরগতিতে হাট-বাজারগুলোতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের উৎসাহিত করতে এ বছর প্রথমবারের মতো ২৩ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান কিনবে সরকার। রাঙ্গুনিয়ায় গত ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত এই ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রান্তিক চাষীদের তালিকার মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড ও জাতীয় পরিচয় পত্রের কার্ডধারী কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে ,বাইরের ব্যবসায়ী ও দালালদের কাছ কম দামে ধান কিনে টাকা পকটস্থ করতে খাদ্য কর্মকর্তার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে অনীহা।

পৌরসভার কুলকুরমাই এলাকার সৈয়দুল হক বাদশা জানান, প্রতি কানি জমিতে ধান চাষে কৃষকের যখন খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। সেখানে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মোটা চিকন প্রকার ভেদে ৯শ’ বিশ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠবে না তাদের। এ অবস্থায় কৃষকরা লোকসান দিয়েই বিক্রি করছেন ধান।

সৈয়দবাড়ীর এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন জানায়, কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী খাদ্য অফিসে ধান নিয়ে গেলে তারা ধান মানসম্মত না হওয়ার অভিযোগে ধান নেয়নি। অথচ এপ্রিল মাসে ধান ঘরে তুলে উপযুক্তভাবে তৈরি করেই খাদ্য গুদামে নিয়েছেন বলে তিনি জানান। এখন তিনি লাভের বদলে অন্তত খরচ তুলতে হলেও কম দামে বাজারে ধান বিক্রি করবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহ প্রদানের লক্ষে ধান সংগ্রহ অভিযান। এ লক্ষ্যে বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে ৫শ’ কৃষকের নাম আইডি নম্বর সহ খাদ্য অফিস বরাবর যথাসময়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সনাধন ত্রিপুরা জানায়, মানসম্মত ধান না আসায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। মান যাচাই করে কিছু ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা বরাবর ধান সংগ্রহ করা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, বিগত বছরগুলোতে ধান তো একবারেই সংগ্রহ হতো না। এবছর কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের তালিকা সংগ্রহ করে খাদ্য অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করনের জন্য এই ধান সংগ্রহ অভিযানে তাদের ন্যায্য মূল্য প্রদান করা হচ্ছে। এতে বাজার দরের চাইতেও বেশি টাকায় তারা ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। খাদ্য কর্মকর্তার অনিয়মের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত