টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অপরাধ আড়াল করতে মাজারের খাদেম সাজেন গুন্নু

চট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার সাবেক শিবিরকর্মী আবু নছর গুন্নু (৪০) নিজেকে আড়াল করতে মাজারের খাদেম সেজে আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শিবির করার সময় গুন্নু হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ড হলেও হামলা মামলা এবং বিভিন্ন অপকর্ম থেকে নিজেকে আড়াল করতে তিনি এক সময় মধ্যপ্রাচ্যে চলে যান। পরে দেশে ফিরে এসে হাটহাজারীর প্রত্যন্ত অঞ্চল পশ্চিম ফরহাদাবাদ এলাকায় মুসাবীয়া দরবার নামে একটি মাজারের খাদেম (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তবে খাদেমের আড়ালেও তিনি মূলত বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

গত ৫ জুন রবিবার মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর প্রথম থেকে এ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সংগঠনগুলোর পাশপাশি শিবিরকেও সন্দেহের বাইরে রাখেনি পুলিশ।

চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগে শিবির করতো এমন লোকজনই জঙ্গি সংগঠনে ঢুকে বিভিন্ন নাশকতা চালাচ্ছে। এ কারণেই হত্যাকাণ্ডে জেএমবির সঙ্গে শিবিরও জড়িত কি না সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

এদিকে, বুধবার সকালে জেলার জেলার হাটহাজারী থানার পশ্চিম ফরহাদাবাদ এলাকা সাবেক শিবির কর্মী আবু নছর গুন্নুকে গ্রেফতারের পর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা সোর্সের মাধ্যমে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে আবু নছর গুন্নু গ্রেফতার করেছি। তার অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্তা থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে এনে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গুন্নু’র গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলায়। তার বাবার নাম মোফাজ্জল হোসেন। তিনি সীতাকুণ্ডে শিবিরের রাজনীতি করতেন।

গুন্নু ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ১৫ বছরে তিনি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যাসহ কয়েকটি মামলা হলে তিনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ কর্মকর্তা দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ‘গুন্নু’র সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তাই তাকে মিতু হত্যার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তবে গুন্নু মিতু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

মিতু হত্যার পর সিএমপি নিয়মিত আয়োজিত প্রেসবিফিং এ বুধবার এ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেনে, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে হত্যায় তার যে সম্পৃক্ততা রয়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি আমরা।’

তবে প্রেসব্রিফিংয়ে গ্রেফতার গুন্নুকে হাজির করেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘মিতু বাসা থেকে কখন বের হবেন, মোটরসাইকেলে করে যারা পালাবে তাদের ‘ব্যাক আপের’ জন্য একটা আলাদা গ্রুপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজন সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছে হত্যাকাণ্ডে।’

তিনি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা যখন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করছিল, তখন জিইসি মোড়ের দিকে কিছুটা অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল একটি কালো মাইক্রোবাস। মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যাওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় ঘটনাস্থলে আসে মাইক্রোবাসটি। পাঁচ সেকেন্ডের মতো ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে চলা শুরু করে মাইক্রোবাসটি। পরে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায় ওই মাইক্রোবাস। কালো কাচের এ মাইক্রোর চালকের আসনের পাশের জানালাটা খোলা ছিল। অন্যসব জানালা বন্ধ ছিল। এ কারণেই গোয়েন্দারা মাইক্রোবাসের যাত্রীর সঙ্গে এ খুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, মিতু হত্যায় সরাসরি তিনজন অংশ নিলেও এতে জড়িত আরও অনেকে। হত্যার সময় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ও হত্যাকাণ্ড সম্পন্নের পর মোটরসাইকেলের পেছনে মাইক্রোবাসটির চলে যাওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে। ওই মাইক্রোবাসে খুনিদের সহযোগীরা অবস্থান করছিলেন বলেও সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা।

মতামত