টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রমজানের শুরুতে অস্থির মিরসরাইয়ে নিত্যপন্যের বাজার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে অস্থির হয়ে পড়েছে মিরসরাইয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের মূল্য। পণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্য বিত্তের ক্রেতাদের মাঝে নাভিশ্বাস উঠেছে। রমজান মাসে দ্রব্য মূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দিলেও কার্যত তা আমলে নিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবী উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বড় বাজারে নিত্যপন্যের মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর কথা থাকলেও তা টাঙ্গানো হয়নি। নিজেদের মত করে পন্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে রমজানে প্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে পোলট্রি মুরগির দাম একলাফে অনেক বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও পোলট্রি মুরগি প্রতি কেজি ১৪৫-১৫০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়। দেশী মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। গরুর গোসত বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা। দাম বেড়েছে বিভিন্ন মাছেরও। পাঙ্গাস মাছ আগে বিক্রি হয়েছে কেজি ১শ টাকা রামজান আসা মাত্রই দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা। খেসারী ডাল ৪৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, রসুন ১৮০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২শ টাকায়, চায়না আদা ১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪০ টাকায়, মটর ৪২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ টাকায়, মসুর ডাল (মোটা) ৯০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ টাকায়, মসুর ডাল (চিকন) ১১০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি। এছাড়া কাঁচা মরিচ এবং বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা করে বেড়েছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখন নিত্যপণ্যের কোন সংকট নেই। তারপরও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গোপনে পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দাম বেড়ে গেছে হঠাৎ করে। তবে অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বড় বাজারে একবার নিত্য প্রয়োজনীয় নিত্য পণ্যের দৈনিক বাজার দর ঠিক করে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়। এরপর থেকে শুধু তারিখ পরিবর্তন করা হলেও বাজারমূল্যে পরিবর্তন করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে পণ্যের দাম বাড়লেও তালিকা হালনাগাদ হয়নি।

ওয়াহেদপুর এলাকার আবুল কাশেম বলেন, ‘রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এর মাশুল গুনতে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিত্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও কাজে আসে বলে মনে হয়না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে পুরো রমজান মাসেই বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা জরুরী।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, মূল্য নির্ধারণ করে টাঙ্গানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। যেসকল ব্যবসায়ী অতিরক্তি মূল্যে পন্য বিক্রি করবে আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মতামত