টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে পৌরবাসীর অভিশাপ পৌরসদর কাঁচা বাজার

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

Puro-Bazar-News-Pictureচট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: বছর বছর হয় ইজারা, একবারও হয়নি সংস্কার। আর সংস্কার ও রক্ষনা-বেক্ষন না হওয়ায় নানা সমস্যা হয়ে দিনে দিনে ভেঙে পড়ছে সীতাকুণ্ড পৌর সদর কাচা বাজারের গ্রাহক সেবা। এ অবস্থায় বাজারটি হয়ে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগের সঙ্গী। অথচ প্রতি বছর বাজারটি সরকারী মূল্যের অধিক মূল্যে দেয়া হয় ইজারা। এরপরও বাজার ভেঙে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী মন্থর হাট নামে পরিচিত পৌরসদর কাচা বাজার।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এক বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে সীতাকুণ্ড পৌরসদর কাচা বাজার। সরকারী মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বাজার ইজারা হলেও সংস্কার নেই বাজারের বিভিন্ন অংশ বিশেষ। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহলায় ভেঙে ভেঙে পড়ায় সীমাহীন জন-দুভোর্গের কারন হয়ে দাড়িঁয়েছে বাজারটি। এরপরও সকল কষ্টকে মাথায় নিয়ে পন্য করছে ক্রেতারা। তবে বাজার সংস্কার না হওয়ায় পন্য বিক্রয়ে হিমশিম খাওয়ায় বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান বিক্রেতরা। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে বাজার সংস্কার না হলে ক্রেতা শূণ্য হওয়ার আংশকা করছে ব্যবসায়ীরা।

পৌরসদর কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল আকারের টিন সেডের বাজারটিতে ব্যবসায়ীরা বেচা-বিক্রি করে কোনো রকমে। পুরো বাজারে এতোটুকু ভাল স্থান নেই যেখানে বসে মালামাল বিক্রি করার। টিন সেডের বাজারে অধিকাংশ জায়গার চালা ভেঙে রোদের ঝলক ও বৃষ্টির ফোটা পড়ে ঘাঁ বিজিয়ে। আর একটু বৃষ্টি হলে তো কথায় নেই, বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে থাকা হাটু পানিতে চলে ক্রয়-বিক্রয়। এছাড়া যত্রতত্র সাজিনো পসরায় বিক্রিত চলাচল করা যেন রীতিমত যুদ্বে নামার অবস্থা। এছাড়া বাজার জুড়ে পয়নিস্কাশন না থাকায় টয়লেটের ময়লা ভেসে আসে বাজরের মাছ-তরকারীর পাশে। একটি মাত্র টয়লেট থাকলেও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে ভরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে নাভিস্বাস হয়ে উঠে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। সে সাথে বাজারের অলি-গলিতে পোকা মাকড়ে ঘর বসতি হয়ে উঠায় খাবার পন্যসহ সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে থাকে নানা রকমের কিট-পতঙ্গঁ। এ পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত বাজার করতে আসা লোকজনের দর্ভোগের যেন সীমা নেই। পরিস্থিতি এমন যে পৌর সদর বাজার পৌরবাসীর হয়ে উঠেছে বীষ ফোটা। এরপরও উপায়ন্ত না থাকার কারণে দুরবস্থার মধ্যে পন্য ক্রয় করা ছাড়া উপায় নেই বলে জানান ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসাইন বলেন,‘ নোংরা-আর্বজনা পূর্ন এ ধরনরে বাজার বাংলাদেশে দ্বীতিয়টি আছে কি না জানা নেই। অথচ উপজেলা অন্যতম বাজার হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় দিনে দিনে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

এদিকে নুংরা পরিবেশে ব্যবসা করতে গিয়ে নানা রোগে-ভুগছে ব্যবসাীরা। প্রতিদিন ৫০-১০০ টাকা হারে টুল দেয়ার পরও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শুননে ইজারাদার। বাজারের দুরবস্থার কারনে আগের তুলনায় বিক্রির হার কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অথচ প্রতি বছর বিশাল অংকে বাজারটি ইজারা হয়ে থাকে। ইজারাদার ইচ্ছা মাফিক টোল আদায় করলেও বাজার সংস্কারের বিষয়ে কথা বলার প্রযোজন মনে করছে না বলে অভিযোগ করেন বাজার কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন। তবে বাজার সংস্কার করার দায়ীত্ব ইজরাদারের নয় বলে জানান কাচা বাজারের ইজারাদার।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র বদিউল আলম বলেন,‘ বাজার সংস্কারে প্রতি বছর বরাদ্ধ হয়ে থাকে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাজারের সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

মতামত