টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা: ফের বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

pm_hasinaচট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস)::সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যাকে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের নীল নকশা হিসেবেই দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে তারাই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে’।

বুধবার গণভবনে সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সৌদি আরব, জাপান ও বুলগেরিয়া সফর করেছেন তিনি। এই সফরে দেশগুলোর সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও উঠে আসে এই সংবাদ সম্মেলন।

লিখিত বক্তব্যের পর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নগুলো ছিল মূলত দেশে সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানা প্রসঙ্গে। তবে সবচেয়ে বেশি কথা হয় গুপ্তহত্যা নিয়ে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুপ্ত হত্যার বিষয়ে আপনারা নিজেরা চিন্তা করে দেখেন, কারা টার্গেট কিলিং করছে। কারা বলে- গুলি কর, বৃষ্টির মতো গুলি কর, বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ’।

বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় নাশকতার বিষয়ে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করলে তারা মানুষের রুদ্ররোষের স্বীকার হয়। এজন্য তারা গুপ্তহত্যায় নেমেছে। তারা এমন মানুষকে হত্যা করছে যাতে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়’।

তবে এসব করে পার পাওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের বিচার হবে’।

কোনও ঘটনা ঘটলে বিরোধী দলের প্রতি দোষারোপ করলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে চলে যায় কি না, এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন এক সাংবাদিক। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই ধরনের চিন্তা করছে তারা যদি জানে জঙ্গি কারা, তাদেরকে ধরে পুলিশকে দিতে আহ্বান জানাই। পার পায়ে যাওয়া জঙ্গিরা কারা তাদের পরিচয় যদি কেউ জেনে থাকেন তাদের বিষয়ে আমাদের অবহিত করুন’।

বাংলাদেশের জন্মের শুরু থেকে নানা ঘটনার যোগসূত্র আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভেবে দেখুন কারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। কারা একুশে আগস্ট বোমা হামলা করেছে। কারা টু্ঙ্গিপাড়ায় হামলা করেছে। আমার ছেলে জয় কি অপরাধ করেছে? তাকে অপহরণ করার জন্য কতটাকা ব্যয় করেছে, এটা তো আপনারা জানেন। এর সঙ্গে কারা জড়িত। সবই তো আপনারা জানেন। কয়দিন আগে লালগোলাপ খ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিককে এই কারণে গ্রেপ্তার হলেন। এই কারণে আপনারা অনেকেই ভেঙে পড়েছেন। গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেছেন’।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা নতুন নয়

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গ। এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতি-গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বেশি সহিংস নির্বাচন-এটা তিনি মানেন না। অতীতকাল থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘর্ষ হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এর আগের নির্বাচনগুলো কোনোভাবেই এবারের চেয়ে কম সহিংস ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। ৮৬ সালের নির্বাচনে একই অবস্থা ছিল। ৯৬ সালের কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন? ২০০১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন সমস্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। তারাই সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে হ্যা, যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কোনওটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী নির্বাচনে যেন এসব ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা দৃষ্টি রাখবো।

তিন দেশ সফর প্রসঙ্গ এর আগে লিখিত বক্তব্যে বুলগেরিয়া, জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এই তিনটি দেশের সম্পর্কই আগের চেয়ে আরও ভালো হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহী তিনটি দেশই।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমবারের মতো সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ঈদুল আজহার পর তাদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। আমরা জমি দেবো, তারা বিনিয়োগ করবেন। আর এতে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে আমরা ভাবতাম সৌদি আরবে কেবল শ্রমিক পাঠাবো। কিন্তু এখন থেকে আমার দক্ষ শ্রমশক্তি পাঠাবো, যারা যাবে তাদের কর্মনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেটিও তারা নিরাপত্তা দেবে। সে দেশ থেকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসবে, আমাদের দেশেও শ্রমিক আসবে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও যেতে পারবে। সেই সুযোগটিও আমরা নিশ্চিত করে এসেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি সামরিক জোটে সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ৪০টি দেশ তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমাদের সেনা প্রধানও সে দেশ ঘুরে এসেছেন।

মতামত