টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিতু হত্যাকাণ্ড: তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রাম, ০৭ জুন (সিটিজি টাইমস):: জঙ্গিদের ত্রাস চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তারে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর খুনের ঘটনায় এখনো অন্ধকারে পুলিশ। গত তিন দিনে খুনের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা ছাড়া আর কোনো সাফল্য নেই। রবিবার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন জনকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রামের পুলিশ বলেছিল, তারা খুনিদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। কিন্তু এক দিন পর পুুলিশ বলছে, আরো অপেক্ষা করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি। খুনি যেই হোক তারা ধরা পরবেই।

মিতু হত্যার অগ্রগতি জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছেন, পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। তবে একটু অপেক্ষা করুন, যে কোন সময় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সম্পর্কে জেনে যাবেন।

তিনি বলেন, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির (চট্টমেট্রো-১২-৯৮০৭) প্রকৃত মালিক কে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি আমরা।এছাড়া স্কুল থেকে মিতুর মুঠোফোনে যাওয়া এসএমএসটি আসলে কীভাবে এবং কোথা থেকে গেল তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। একটি হলো-হত্যাকান্ডের আগের রাতে মাহীরকে এক ঘণ্টা আগে স্কুলে পাঠানোর কথা বলে মাহমুদা খানম মিতু মোবাইলে-কে এসএমএস পাঠিয়েছিল? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি কার?।

তৃতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে- ঘটনার দুই দিন আগে বাবুল আক্তারের পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যকে কেন প্রত্যাহার করে নিলেন পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ। এই তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের না করা পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত করা কঠিন হবে। ফলে পুলিশ খুনিদের শনাক্তের কাছাকাছি পৌঁছার কথা বললে তাদের গ্রেপ্তার সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

গত রবিবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড়ের অদুরে কতিপয় দুর্বৃত্তের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মিতু।

সোমবার সকালে নগরীর চকবাজার থানার শুলকবহর বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিতুর হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর খুনিদের শনাক্তে পুলিশ কাছাকাছি বলে দাবি করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।

এমনকি অতি উচ্চাশা প্রকাশ করে তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন মঙ্গলবারের মধ্যে এ হত্যাকান্ডে জড়িত এবং হত্যাকন্ডের বিস্তারিত জানাতে পারবেন। অগ্রগতি জানতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ভিড় করতে থাকে গণমাধ্যম কর্মীরা।

পুলিম কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি মোতাবেক স্কুল থেকে সময়সূচি পরিবর্তনের কোন এসএমএস কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু স্কুলের নেট থেকে শুধু মিতুর মুঠোফানে নয় আরও দুয়েকজন অভিভাবকের মুঠোফোনেও সময়সুচি পরিবর্তনের এসএমএস গেছে। এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ফলে একটু সময় লাগছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত