টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিতু হত্যার বিচার চান বাবা-মা

mituচট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস):  ‘আমার মেয়েটাতো নিষ্পাপ। কোনোদিন উঁচু স্বরে কথা বলতো না। কারো সাথে অহঙ্কারী কথা বলতো না। মানুষ বুঝতোই না জামাই পুলিশের এসপি। এমন মেয়েকে যারা খুন করেছে তাদের পৈশাচিকতার বিচার চাই। আর কিচ্ছু না, অর্থ চাই না। শুধু বিচার চাই।’

সোমবার দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে রাজধানীর খিলগাঁও মেরাদিয়া ভূইয়াপাড়ায় ২২০/এ নং নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নিহত মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, বড় কষ্ট হয়। সারা জীবন সরকারের কাজ করেছি। মানুষের সেবায় কাজ করেছি। নিজে অবসরে গেলেও মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি পুলিশ কর্মকর্তার ছেলের সঙ্গে। পরে জামাইও বিসিএস দিয়ে পুলিশে যোগদানে করে। কিন্তু কি পেলাম। সারাটি জীবন এখন আহাজারি করতে হবে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার ছেলে নেই। দুটো মেয়ে। বড় মেয়ে মাহমুদা আক্তার মিতু ছেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ। সব সময় খোঁজ-খবর নিতো মেয়েটা। এখন আমার কি হবে। আমাকে মেয়েটা অসহায় করে গেলো। আমি যে এখন বেঁচে থেকেও মরা।

অন্যদিকে মিতুর মা সাহিদা মোশাররফ বলেন, আমার কোনো শখ নেই। সব শেষ। আমার মেয়ে এবার রমজানের মধ্যে আসার কথা। কি খাবে না খাবে কতো কথা। কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝি না, আমি আমার মেয়ে তো ফেরত পাবো না, টাকা-পয়সা চাই না, শুধু আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

চট্টগ্রামের সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহবুবা আক্তার মিতুর ছোট বোন শায়লা মোশাররফ নিনজা টঙ্গী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস এর চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী। বাবা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তিনিও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বোনের মরদেহ আনতে।

শায়লা বলেন, আমার তিন খালুই পুলিশ কর্মকর্তা। জাকির হোসেন, মনির হোসেন ও রাজু। তারা সবাই এসেছেন। মিতু আপু হত্যার বিচার যেন সুষ্ঠুভাবে হয় তা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন। আমাদের সবার এখন একটাই দাবি আপুকে যারা পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

মতামত