টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশের কারণে সামাজিক -নিরাপত্তায় প্রতিকূল প্রভাব

Shangshadচট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস):  অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক মায়ানমারের নাগরিক অনুপ্রবেশ করায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার নিরাপত্তা, জনমিতিক বিন্যাস, অর্থনীতি এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে চলমান এ পরিস্থিতি ওই অঞ্চলের সার্বিক অবস্থাকে নাজুক করে তুলছে। তাই সরকার শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী মায়ানমারের নাগরিকদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের মায়ানমারে ফেরৎ পাঠাতে সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সোমবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিদারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকাটি ভৌগলিক, ভূ-প্রাকৃতিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত দুটি রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে বর্তমানে ৩২ হাজার ৮৯৪ জন শরণার্থী এবং ক্যাম্পের বাইরে প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ অনুপ্রবেশকারী মায়ানমারের নাগরিকদের উপস্থিতির ফলে দেশের নিরাপত্তায় প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফের‍ৎ পাঠানোর বিষয়ে আমরা মায়ানমার সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মায়ানমার সরকারের অনাগ্রহের কারণে ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের সরকারের পূর্ববর্তী মেয়াদ থেকেই আমরা এই সমস্যাটির স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যোগ করেন তিনি।

মাহমুদ আলী জানান, দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় আমাদের বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আদান-প্রদান ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী এই সমস্যাটির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে উপনীত হতে পারবো। আমাদের সরকার পারস্পরিক সৌহার্দ ও সমঝোতার ভিত্তিতে দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে সম্ভাবনাময় বহুমুখী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়ে এই সমস্যাটির একটি সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

মতামত