টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যেভাবে হত্যা করা হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে

সন্দেহ তীর জেএমবির দিকে

ছবিঃ অনুপম বড়ুয়া

ছবিঃ অনুপম বড়ুয়া

চট্টগ্রাম, ০৫  জুন (সিটিজি টাইমস):  পরিকল্পিত এবং টার্গেট করেই দুর্বৃত্তরা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করেছে। এ আগে থেকে তার গতিবিধি লক্ষ্য এবং নজরধারী করছিল সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক আলামত দেখে এ ধারণা করছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

প্রতক্ষ্যদর্শীদের বিবরণ দিয়ে সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, বাবুল আক্তার পরিবার নিয়ে গত ৩ বছর ধরে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ও আর নিজাম রোড (মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পিছনের বিল্ডিং) ইক্যুইটি সেঞ্চুরিয়ান ভবনেই বসবাস করে আসছিলেন।

তার অনুপস্থিতিতে ছেলে মাহির এক মেয়ে তাবাসসুম এবং স্ত্রী ছিলেন বাসায়। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ছেলে মাহির (৭) কে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু তারা বাসা থেকে হেটে গাড়িতে উঠার জন্য জিইসির মোড়ে দিকে যাচ্ছিলেন। মাহির বায়োজিদ সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ক্যান্টেন্টম্যান্ট স্কুলে (কেএন পাবলিক) দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

বাসা থেকে বেরিয়ে মা ছেলে কয়েকশ গজ হেটে যেতেই ওয়েলফুড সামনে মোটর সাইকেল আরোহী ৩ জন তাদের গতিরোধ করে। প্রথমে তারা মোটর সাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মিতুকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এর পর মিতুর হাতে ধরে থাকা তার ছেলে মাহিরকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুরে ঠেলে দিয়ে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। পরে কানের কাছে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালায়।

এতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন মিতু। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

জিইসি’র মত জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে এ হত্যাকান্ডের  ঘটনা ঘটিয়ে দুর্বৃত্ত নির্ভিগ্নে পালিয়ে যাওয়ার সময় কোন ধরণের প্রতিরোধ করেনি কোন পথচারী বা আসে পাশের দোকান কর্মচারীরা।

সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে মিতুর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। লাশ কাপড় দিয়ে ঢাকা। বিপুল পরিমাণ পুলিশ নারী পুলিশ এবং ডিবি সদস্য পুলিশের এলাকায় গিরে রেখেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকায় শত শত মানুষের ভীড়। যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হয়।

বাবুল আক্তারে ভাড়া বাসার (ভবনের গার্ড ) মো. সাত্তার জানান, ম্যাডাম বাচ্চাকে নিয়ে সকালে বেরিয়ে যেতে দেখেছি। তখন ভবনের আশে পাশে তেমন সন্দেহজনক কাইকে দেখিনি। বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি উনার ছেলে হাপাতে হাপাতে গেইটে চলে আসে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে ছেলে বলে তার মাকে মেরে ফেলেছে। এ কথা শুনেই আমরা কয়েকজন দৌড়ে ছুড়ে গিয়ে দেখি ম্যাডামের লাশ রক্তক্তবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ঘটনার পরপরই সিএমপি পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, খুবই মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমরা দ্রুত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। খুনিরা যাতে নগরী ছেড়ে যেতে না পারে। তার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। এ হত্যাকান্ডে জেএমবি জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার।

এদিকে ঘটনার পর পর সিআইডি, ডিবি, সিবিআই ও পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নেমেছে।

মতামত