টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শেষ ধাপে চট্টগ্রামে চেয়ারম্যান হলেন যারা

চট্টগ্রাম, ০৪  জুন (সিটিজি টাইমস): ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের শেষ ধাপে বেসরকারি ফলাফলে সরকারি দলের প্রার্থীদের জয়জয়কার। ৪১ ইউনিয়নের মধ্যে গতকাল ৩৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মিরসরাইয়ের চারটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই বিজয়ী হয়েছিলেন। সাতকানিয়ার একটি ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ৩৬ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ২৯টি ইউনিয়নে জয়লাভ করেন। ৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হন। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন।

আনোয়ারা : ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয় পেয়েছেন। বৈরাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সোলায়মান ১৩ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোয়াব আলী পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৬৬ ভোট। বারশত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমএ কাইয়ুম শাহ ৬ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মো. হাসান চৌধুরী পেয়েছেন ৩ হাজার ৯২০ ভোট। রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জানে আলম ৮ হাজার ৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাবের ইবনে মাহবুব পান ৩ হাজার ২ ভোট। বটতলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মন্নান চৌধুরী ৫ হাজার ২৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৯ ভোট। বরুমচড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ৬ হাজার ১৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির আনসার পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬২ ভোট। বারখাইন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাসনাইন চৌধুরী শাকিল ৫ হাজার ৬৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আলমগীর চৌধুরী পান ৪ হাজার ৩৬৯ ভোট। আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী অসীম দেব ৩ হাজার ৫৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দিদারুল ইসলাম চৌধুরী টিপু ১ হাজার ৭০২ ভোট পেয়েছেন। চাতরী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইয়াছিন হিরু ৫ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী সামশুদ্দিন আহমদ চৌধুরী ৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। পরৈকোড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মামুনুর রশিদ চৌধুরী আশরাফ ১০ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার জামাল চৌধুরী পেয়েছেন ১৪৩৮ ভোট। হাইলধর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ১১ হাজার ৪৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ৩৫৪ ভোট পেয়েছেন।

পটিয়ার শোভনদন্ডী : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, উপজেলার শোভনদন্ডীতে আ.লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এহসানুল হক ৭ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি দলীয় প্রার্থী সামশুল আলম সওদাগর পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ ভোট।

মিরসরাই : উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জাহেদ ইকবাল চৌধুরী ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পান ৪৩৫ ভোট। মায়ানি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কবির আহম্মদ নিজামী ৯ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নূর হোসেন পান ২০৬ ভোট। ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ফজলুল করিব ফিরোজ ১২ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সালাউদ্দিন সেলিম পান ৭৪৩ ভোট।

এর আগে বাকি ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

লোহাগাড়া : পুটিবিলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. ইউনুচ ৭ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতস্ত্র প্রার্থী ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭২ ভোট। চুনতি ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী জয়নাল আবেদীন জনু কোম্পানি ১০ হাজার ৭৭৪ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নূর মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ্ পেয়েছেন ২ হাজার ৩৮৮ ভোট। চরম্বা ইউনিয়নে আ. লীগের মাস্টার শফিকুর রহমান ৫ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৬ ভোট। পদুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদশা পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৩২ ভোট। কলাউলাজান ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী এমএ ওয়াহেদ ৫ হাজার ৭০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৬ ভোট।

সাতকানিয়া : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সাতকানিয়ায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ১২টিতে নৌকার প্রার্থী, ১টিতে জামায়াত ঘরনার ও ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একটি ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।

চরতি ইউনিয়নে জামায়াত ঘরনার প্রার্থী রেজাউল করিম ৫২৩৯ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগের বিদ্রোহী ভোট পেয়েছেন ৪৪৮২ ভোট। খাগড়িয়ায় আওয়ামী লীগের আক্তার হোসেন ৮২০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জসিম ভোট পেয়েছেন ৪১৯৭ ভোট। নলুয়ায় আওয়ামী লীগের তসলিমা আক্তার ৪৫৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দিদারুল আলম ১৮২৮ ভোট। আমিলাইশে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম হানিফ ৩০৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সরোয়ার উদ্দিন পেয়েছেন ১৬২৪ ভোট। কাঞ্চনায় আওয়ামী লীগের রমজান আলী ৫৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান মারুফ পেয়েছেন ৩৫৩৯ ভোট। মাদার্শায় আওয়ামী লীগের আবু নঈম মো. সেলিম ৫৯৮৩ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ফেরদৌস পান ৮৯ ভোট। পশ্চিম ঢেমশায় আওয়ামী লীগের আবু তাহের জিল্লা ২৮২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরিদুল ইসলাম পান ৯৪৫ ভোট। ঢেমশায় আওয়ামী লীগের রিদুয়ান উদ্দিন ৩৯৫৩ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ঘরনার নুরুল আলম পান ২০৬৭ ভোট। সাতকানিয়া সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নেজাম উদ্দিন ৭৯৮৪ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ঘরানার মফিজুর রহমান পান ২৩৮৫ ভোট। সোনাকানিয়ায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের নুর আহমদ হাজী বিজয়ী হয়েছেন। বাজালিয়ায় আওয়ামী লীগের তাপস দত্ত ৫৬৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম নুরুল ইসলাম সিকদার (এলডিপি) পান ২০৮৭ ভোট। কেওচিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনির আহমদ ৩৭৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ওসমান আলী পান ৩৪৩২ ভোট। কালিয়াইশে আওয়ামী লীগের হাফেজ আহমদ ৫৪৬৫ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম হোসেন উদ্দিন ভুট্টু পান ৪৩৮১ ভোট। পুরানগড়ে আ.লীগের মাহবুবুল হক সিকদার ৭৯১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথী মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৩৯৩ ভোট। ধর্মপুরে আওয়ামী লীগের ইলিয়াছ চৌধুরী ৫১৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিদ্রোহী আকতার আহম্মদ পেয়েছেন ৪৭০ ভোট। ছদাহায় আওয়ামী লীগের মোশাদ চৌধুরী ১০৭৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম কুতুব উদ্দিন রনি (স্বতন্ত্র) পেয়েছেন ৪০৮৯ ভোট। এওচিয়ায় আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম ৫৬২১ পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৪৩৮৩ ভোট। তবে একটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত থাকায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

মতামত