টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে তীব্র গরমে বেড়েছে শীতল পাটির কদর

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

sitakund-patiচট্টগ্রাম, ০৩  জুন (সিটিজি টাইমস):গরমের তীব্রতায় নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে জন জীবন। প্রাণীকুলের সবাই অতিষ্ট গরম হতে বাচতে খোজছে শান্তির পথ। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা কিছুটা বিদ্যুৎ পাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পরলেও অধিকাংশ মানুষের ভরসা প্রকৃতির মুক্ত বাতাস ও শিতল পাটির ছোয়া। তবে গরমের তীব্রতার মাঝে প্রকৃতি ঝিমিয়ে পড়ায় গায়ে মাখা বাতাস খুবই দুরহ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতির হাত থেকে রেহায় পাওয়ার একটি মাত্র ভরসা গায়ের হাতে তৈরী শীতল পাটি। যদিও অন্যন্য সময়ের তুলনায় তীব্র গরম হতে বাচতে বেড়েছে শিতল পাটিঁর কদর। তবে আগের তুলনায় পাটির কদরটা তেমন চোখে পড়ে না। তারপরও যুগের পর যুগ একটু আরামের ছোয়া দিতে শীতল পাটি তৈরী বিক্রি করে চলেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের পূর্ব মুরাদপুর গ্রামের পেশকার পাড়ার এক হিন্দু পরিবার। বাপ-দাদার পেশা হিসেবে বংশানুক্রমে অতি কষ্টের মাঝেও শিতল পাটির ব্যবসাকে ধরে রেখে চালিয়ে যাচ্ছেন সংসারের বরন-পোষন। অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাজার হতে বাজারে পাটি বিক্রি করা হলো পরিবারের সদস্যদের ্একমাত্র কর্মযজ্ঞ। আধুনিকতার মাঝে শীতল পাটি যে মূলবান একটি পন্য তা সর্বজন সীকৃতি হয়ে আছে সর্বত্র। তবে এ কুটির শিল্পকে ধরে রাখতে সরকারী সহযোগীতা জরুরী বলে মনে করছে বংশানুক্রমে শীতল পাটির সাথে সম্পৃক্ত ফেলু চন্দ্র নাথ।

তিনি বলেন,‘ পূর্ব পুরুষের ব্যবসাকে আগলে ধরে সংসার জীবন পার করেছি। এখন আগের মতো চাহিদা না থাকলেও শিতল পাটির কদর রয়েছে যুগ যুগ ধরে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্লাষ্টিকের পার্টি ও চাটাইয়ের বিস্তার লাভ করায় শিতল পাটিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। যার ফলে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় বহু পরিবার বন্ধ করে দিয়েছে পাটি তৈরী করার কাজ। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকৃতির পাটিতে এখনও চাহিদা পুরন হচ্ছে সমাজের সব শ্রেণীর পরিবারে। পাটি ছাড়া বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব না বিদায় ব্যবসা আজো চলছে। আর গরম শুরুতে পাটির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। নিজেদের তৈরী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে পাটি ক্রয় করে বিক্রি চলে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ঠেলে অতিকষ্টে মাঝেও ধরে রেখেছি বাপ-দাদার পেশা। ’

তিনি আরো বলেন,‘ একটি পাটি তৈরীতে করতে প্রায় ৩৬০ টি বেতে গাছের প্রয়োজন হয়। প্রায় ৩০ দিন পরিশ্রম করার পর তৈরী হয় একটি পািট। প্রতিটি পাটি ৩’শ থেকে ১৫’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। সর্বনিন্ম ৩-৬ ও ৬-৭ ফুট আকৃতির তৈরীকৃত পার্টি মন্থর হাট, দারগাহাট,কুমিরা, মিঠাছড়া বাজার,শুকলালহাটসহ সীতাকুণ্ড-মীরশ্বরাইয়ের বিভিন্ন বাজারে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করা হয়। তবে সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে শিতল পাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ দেশের বাইরে রপ্তানী করা যেত। এখন তো পুরো মাস পাটি বিক্রির ৫-৭ হাজার টাকার আয় দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। অথচ উপজেলা যুব উন্নয়নসহ সমবায় সমিতি থাকার পরও সরকারী সহযোগীতার অভাবে ব্যবসার বন্ধ হতে চলেছে বলে তিনি জানান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত