টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আসলামের ৪৩১ কোটি টাকা ঋণের নথি দুদকে

চট্টগ্রাম, ০১  জুন (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের দুটি ব্যাংক থেকে ৪৩১ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ভবনে অবস্থিত পূবালি ব্যাংক ও এবি ব্যাংক থেকে এই ঋণ নেন আসলাম চৌধুরী।

দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া কাগজপত্র জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আরব বাংলাদেশ ব্যাংক (এবি) ও পূবালী ব্যাংক থেকে আসলাম চৌধুরীর নেওয়া ঋণ জালিয়াতির কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঋণ দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতি আছে বলে মনে হচ্ছে। প্রমাণ পেলে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুদক সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে পূবালী ব্যাংক সদরঘাট শাখা থেকে ‘সেভেন ডি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৮০ কোটি টাকা ঋণ নেন আসলাম চৌধুরী। বর্তমানে সুদে-আসলে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি টাকা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় নথি দুদকের কাছে গতকাল মঙ্গলবার হস্তান্তর করেছে পূবালী ব্যাংক।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো রকম জামানত ছাড়াই আসলাম চৌধুরীর ‘সেভেন ডি’কে ঋণ দিয়েছে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঋণ নেওয়ার আগে কক্সবাজারের একটি হোটেলে ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক করেন আসলাম চৌধুরী। জামানত ছাড়া ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রদত্ত ঋণের এক-চতুর্থাংশ অর্থ ওই ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা ভাগ-বন্টন করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পূবালী ব্যাংক প্রিন্সিপ্যাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নীতিমালা মেনেই আসলাম চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানকে ৮০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। তবে আসলাম চৌধুরী এ ঋণের খেলাপি।” তিনি আরও বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঋণের কাগজপত্র মঙ্গলবার দুদকে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঋণখেলাপি ও চেক প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ যাবৎ ১৭টি মামলা করেছে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি মামলায় সীতাকু-ে অবস্থিত তার মালিকানাধীন প্রায় ৫ একর জায়গা ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

একইভাবে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক থেকে আসলাম চৌধুরীর নেওয়া ৩৩৫ কোটি টাকা ঋণের নথি জব্দ করেছে দুদক। জোট সরকার আমলে হাওয়া ভবন থেকে বিএনপির শীর্ষ এক নেতার তদবিরে নামে-বেনামে এ ঋণ পান আসলাম চৌধুরী।

দুদক সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরীর অধিকাংশ ঋণ নেওয়া হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে। ৫টি ব্যাংকে প্রায় এক হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা ঋণ খুঁজে পেয়েছেন দুদক ও গোয়েন্দারা। এর মধ্যে সীতাকু-ে একটি জুতার কারখানার নামে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণের সন্ধান পায় দুদক।

২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন আসলাম চৌধুরী। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সীতাকু- আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। এর আগে সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বশেষ বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

সম্প্রতি ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন দল লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে ভারতে বৈঠক ও সরকারের উৎখাতের অভিযোগ এনে আসলাম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাকে গতকাল মঙ্গলবার আবার সাত দিনের রিমান্ড নেয়া হয়।

আসলাম চৌধুরীকে রাজধানীর মতিঝিল ও লালবাগ থানার নাশকতার দুই মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ১৫ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরদিন ১৬ মে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির (উত্তর) পুলিশ পরিদর্শক গোলাম রব্বানী। শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মতামত