টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এক ভাইয়ের ফাঁসি, দুই ভাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম, ০১  জুন (সিটিজি টাইমস): মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মহিবুর রহমান বড় মিয়ার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে মোট ২৪০ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তাংশের প্রথম অংশ পাঠ করেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারর্দী।

সকাল ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি প্রহরায় আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

গত ১১ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি একই মামলার আসামি মহিবুর ও মুজিবুরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর হোসেন। ২৯ এপ্রিল ধানমন্ডি কার্যালয়ের সেফ হোমে সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা।

এর আগে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি এলাকা থেকে খাগাউড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ। ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিন আসামিই কারাগারে আছেন।

এরপর ৩১ মে এ তিনজনের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ:
মহিবুর, মজিবুর ও রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হলো, একাত্তরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে লাশ গুম করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ হলো, আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন চালান।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা দুই নারীকে ধর্ষণ করেন।

চতুর্থ অভিযোগ হলো, আনছার আলী নামের এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালান আসামিরা। ঐ নির্যাতনে পঙ্গু হন আনছার।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত