টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের ৪৭ ইউনিয়নে কাল ভোট, সহিংসতার আশঙ্কা

চট্টগ্রাম, ২৭  মে (সিটিজি টাইমস):: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে চট্টগ্রামের ৪৭ ইউনিয়নে ভোট নেয়া হবে আগামীকাল ২৮ মে। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বৃহ¯পতিবার মধ্য রাত থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে বিজিবি, র‌্যাব, নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলায় এই ধাপে বেশিসংখ্যক ইউনিয়নে ভোট নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে শঙ্কা ও আতঙ্ক বাড়লেও সহিংসতা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

চলমান ইউপি নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, সহিংসতা, সংঘাত-সংঘর্ষ, ব্যাপক জালভোট ও কারচুপিতে শেষ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম ধাপেও নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।

মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণায় সংঘাত, সহিংসতা, কেন্দ্র দখলের হুমকি ও প্রার্থী-সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় আগে থেকেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রচারণার শেষ দিনে জেলার পটিয়া, বাঁশখালি, সাতকানিয়া, বোয়ালখালি ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ২১ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে নির্বাচনী সহিংসতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজদ্দৌলা দুলালের কর্মী মহসিনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা। শুধু তাই নয়, এ হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ আগে ইউনিয়নের রানীরহাট এলাকায় সিরাজদ্দৌলা দুলালের হোটেল ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। এরপরও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার বা অবৈধ অস্ত্র জব্দে কোনরকম পদক্ষেপ না নিয়ে নির্বাচনে ভোট গ্রহণে যাচ্ছে প্রশাসন।

তবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মী সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরকে বিপুল অস্ত্রসহ আটক করে রাঙামাটি জোনের সেনাবাহিনী। আর সাতকানিয়া থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিসহ একজনকে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল জানান, বৃৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী এলাকায় মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত তারা মাঠে অবস্থান করবেন। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার ফোর্সও মাঠে থাকবে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার জানান, সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে একজন অফিসারের নেতৃত্বে ৫ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনী মিলে ১৫-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রগুলোতে একজন অফিসারের নেতৃত্বে ছয়জন পুলিশ থাকবেন। এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার বেশিসংখ্যক ইউনিয়নে ভোট নেয়া হচ্ছে। তাই বাড়তি কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নেই।

এদিকে বিভিন্ন ইউপিতে নির্বাচনী সহিংসতা অব্যাহত থাকায় ভোট নিয়ে নানা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন প্রার্থীরা। বোয়ালখালী উপজেলার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করেন।

বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ ছিল অহরহ। এসব অভিযোগের বিষয়ে কমিশন অনেকটা নির্বিকার ছিল।

মতামত