টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইউপি নির্বাচন: রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক সন্ত্রাসের আশঙ্কা, মাঠে নেমেছে র‌্যাব-বিজিবি

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

bgbচট্টগ্রাম, ২৭ মে (সিটিজি টাইমস):: রাঙ্গুনিয়ার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন প্রশাসন। উপজেলার পোমরা, সরফভাটা ও ইসলামপুর ইউনিয়নে ব্যাপক সন্ত্রাসের আশংকা করছেন ভোটাররা। এই তিন ইউনিয়নে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ প্রশাসনও এসব ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। এই তিন ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র গুলোতে যাতে কোন ধরণের পেশী শক্তি ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। পোমরা ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থীদের ভোট গোপনে এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট প্রকাশ্যে মারার জন্য সরকারি দলের নেতাকর্মীরা গত বুধবার বিকেলে বৈঠক করেছেন বলে বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন। তিনি এই ইউনিয়নে ভোট ডাকাতির আশংকা করছেন। সরফভাটা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শেখ ফরিদ চৌধুরী ও আ.লীগের বিদ্র্রোহী প্রার্থী মুজিবুল ইসলাম সরফির কর্মীরা মূখোমূখী অবস্থানে রয়েছেন। সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার এই ইউনিয়নে ব্যাপক সন্ত্রাসের আশংকা করছেন ভোটাররা। ইসলামপুর ইউনিয়নেও আ.লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন ও বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুদ্দৌল্লাহ দুলালের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সন্ত্রাসের আশংকা দেখা দিয়েছে। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর মো. মহসিন নামের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে আ.লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন দাবী করেছেন একজন দরিদ্র ও নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে নিজেদের লোক দিয়ে হত্যা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্ঠা করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুদ্দৌল্লাহ দুলাল। সব মিলিয়ে এই তিন ইউনিয়নের ভোট গ্রহণে প্রশাসনের আলাদা প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম। বিজিবি-পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু ভোট উৎসবের অপেক্ষায় আছেন রাঙ্গুনিয়াবাসী। গতকাল সকালেই রাঙ্গুনিয়ায় এসে পৌঁছেছে চার প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য। এছাড়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও জেলা পুলিশের পক্ষেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা ব্যাপক শো-ডাউন ও শেষ মূহুর্তের প্রচারণা চালিয়েছেন। ১২টি ইউনিয়নের ৬ জন রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে ৯টি করে কেন্দ্র রয়েছে। ১২ ইউনিয়নের মোট ১০৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। তৎমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ৮৫টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রশাসন। রাঙ্গুনিয়ার ১২ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও চার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হওয়ায় এসব ইউনিয়নে শুধুমাত্র মহিলা ও পুরুষ মেম্বার পদে ভোট গ্রহণ করা হবে। চেয়ারম্যান পদে বাকি আট ইউনিয়নে চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্ধীতায় নেমেছেন ২২ জন প্রার্থী। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯৩ জন ও সাধারন সদস্য পদের ৩৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। রাঙ্গুনিয়ার ১২ ইউনিয়নে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদিকে গতকাল মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এজন্য শেষদিনের জমজমাট প্রচারণায় সরগরম ছিল সমগ্র উপজেল। ভোটারদের মনজয়ের প্রাণান্তকর চেষ্টায় দুয়ারে দুয়ারে গেছেন প্রার্থীরা। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখনও পর্যন্ত মোটামুটি শান্তিপূর্ণই দেখা গেছে নির্বাচনী পরিবেশ। তবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে বিএনপি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আশংকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

rabউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ইতিমধ্যে ৪ প্লাটুন বিজিবি উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া দুই জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোন ভাবেই ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলঅ সৃষ্টির চেষ্ঠা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রশাসন সুত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মোট ১০৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮৫টি ভোট কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র প্রশাসনের আলাদা দৃষ্টি রাখা হবে। অতিগুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র গুলো হচ্ছে সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মীর আফাজ চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মেহেরিয়া মাদ্রাসা, ওসমান বিন আফ্ফান নুরানী মাদ্রাসা, সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছৈয়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরফভাটা মোয়াবিনুল ইসলাম মাদ্রাসা, পূর্ব সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পোমরা ইউনিয়নের উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়, ছাইনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিলাগাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোসাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোমরা এসআরএল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোমরা মাইজ পাড়া আলমাছ খাতুন আন রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর ঘাগড়া সেগুন বাগিচা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রইশ্যাবিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মগাছড়ি হাজী রহম আলী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ, শাহ মোজাদ্দেদীয়া ছালেহিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল আমিন পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেতাগী ইউনিয়নের পশ্চিম বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢেমিরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতাগী রহমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, হাফেজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাউখালি আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়। রাজানগর ইউনিয়নের জঙ্গল বগাবিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়, ভরনছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাকিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাগড়া সাতঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হোছনাবাদ ইউনিয়নের ঘাগড়া খিলমোগল ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, খিলমোগল ঈশান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জা এমদাদ আলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজুরুপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মইত্যার পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর হাজী কালামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পারুয়া সিবিএস সম্মিলনী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৈয়দনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য পারুয়া জেএবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য পারুয়া শাহেদ আলী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহাব্দিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সাহাব্দিগর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিলক ইউনিয়নের রাজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম শিলক ফিরিঙ্গীখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম শাহ আলম চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, নটুয়ার টিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিলক উচ্চ বিদ্যালয়, শিলক ডাউলিং প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিনাগাজীর টিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পদুয়া ইউনিয়নের নারিশ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পদুয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, সারাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম খুরুশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব খুরুশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলহারিয়া নাপিতপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোদালা ইউনিয়নের মধ্য ধোপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোদালা চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ধোপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোদালা চৌধুরী পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, পূর্ব কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কোদালা সোলতানিয়া মাদ্রাসা, সন্ধীপ পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুলবাগিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খন্ডলিয়াপাড়া কুতুবুল ইসলাম মাদ্রাসা, রাজাভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব রাজানগর সোনারগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পূর্ব রাজানগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং রাজানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামাইরহাট বিটা পাবলিক লাইব্রেরী। লালানগর ইউনিয়নের হযরত কচির মোহাম্মদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, লালানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়, হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাকিম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, গজালিয়া আছাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের টিম রাঙ্গুনিয়ায় টহল শুরু করেছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে ভোটগ্রহণ করা যায় সেজন্য পূর্ণ প্রস্তুতি আছে আমাদের। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে একজন উপপুলিশ পরিদর্শক, একজন সহকারি পুলিশ পরিদর্শক, পাঁচজন কনস্টেবল ও ১২জন আনসার সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ইউনিয়ন ভিত্তিক পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবি ও র‌্যাব টহলে থাকবেন। তিনটি কেন্দ্র মিলে থাকবে টহল টিম। পাঁচটি কেন্দ্র মিলে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। থানায় স্ট্যান্ডবাই ফোর্সও রাখা হবে। যেখানেই কেউ সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্ঠা করবেন তৎক্ষণাৎ সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল টিম পৌঁছে যাবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসন কঠোর থাকবে বলে তিনি জানান।

মতামত