টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গ্রেফতারে পুলিশের কৌশল বদল

চট্টগ্রাম, ২৬  মে (সিটিজি টাইমস)::সন্দেহভাজন হিসেবে বিভিন্নজনকে আটক ও গ্রেফতারের কৌশল বদলেছে পুলিশ। ৫৪ ও ১৬৭ ধারার সংশোধন বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর পুলিশ এ কৌশল বদলায়।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ের পর বুধবার রাত পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫৪ ধারায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। এ সময়ে আদালতে হাজির করে কারও রিমান্ডেরও আবেদন করেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কোনও থানা ও সংস্থা। তবে ৫৪ ধারায় কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও ডিএমপি অধ্যাদেশে ‘৮৬’ ও ‘১০০’ নামে একই বৈশিষ্টের দু’টি ধারা রয়েছে। এ দু’টি ধারাতেই এখন পুলিশ সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করছে। তবে মঙ্গলবার থেকে ডিএমপি অধ্যাদেশের এ দু’টি ধারায় কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ৫৪ ধারার সুফল ও কুফল দু’টোই আছে। আরও বহু ধারা আছে চাইলেই যেগুলোর অপব্যবহার করা যায়। সেটা মানসিকতার ব্যাপার। তাছাড়া সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পুলিশের ধারার অভাব নেই। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আরও বেশি হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও আদালতের নির্দেশনার বাইরে পুলিশ কিছুই করবে না। আদালত যেভাবে বলবেন সেভাবেই পুলিশ কাজ করবে।

পুলিশের দায়িত্বশীল ওই সূত্রটি জানায়, ৫৪ ধারাসহ আরও যেসব ধারায় বিনা পরোয়ানায় পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটক করে থাকে সেই তথ্য সাধারণত সংরক্ষণ করা হয় না। কারণ, সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরনো বিভিন্ন মামলায় কিংবা নতুন করে মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মঙ্গলবার বিনা পরোয়ানায় আটক ও রিমান্ড সংশোধনী বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পরপরই সেটা মেনে চলতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। আদালতের রায় না মানলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা করা মডেল সাবিরা হোসেনের প্রেমিক নির্ঝর সিনহা রওনক ও তার ভাই প্রত্যয়কে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের কোনও আবেদন করেনি পুলিশ। আসামিদের আদালতে হাজির করে রওনকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রহণ করার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস। কিন্তু রওনক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া এ মামলার আরেক আসামি রওনকের ভাই প্রত্যয়ের বিরুদ্ধে রিমান্ড বা জবানবন্দি গ্রহণের কোনও আবেদন না থাকায় তাকেও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এমনিতেই ৫৪ ধারায় খুব কম সংখ্যক লোককে পুলিশ গ্রেফতার করে থাকে। মঙ্গলবার এ ধারা নিয়ে উচ্চ আদালতের একটি রায় এসেছে। তাছাড়া পুলিশ সবসময় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করে থাকে। ১৬৭ ধারায়ও পুলিশ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করতো। সে ক্ষেত্রেও আদালত যেভাবে বলেছেন সেভাবেই পুলিশ কাজ করবে।

মঙ্গলবার ফৌজদারি কার্যবিধির বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ৫৪ ধারা ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ১৬৭ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা দেওয়ার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের দেওয়া ১৫ দফা নির্দেশনা বহাল থাকলো, যেখানে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেওয়ার বিধানে পরিবর্তন এনে কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে।

হাইকোর্টের যুগান্তকারী নির্দেশনায় বলা হয়েছিলো, আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে এবং গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে। গ্রেফতারকৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ডাক্তারি সনদ নিতে হবে পুলিশকে। গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতকে এর কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যস্থান থেকে গ্রেফতার করা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে তার নিকটাত্মীয়কে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেফতারকৃতকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের অভ্যন্তরে কাঁচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তবে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন এবং পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।- বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত