টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৩ ঘন্টায় কোটি টাকা লেনদেন!

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

mirsarai-ctg-photoচট্টগ্রাম, ২৫ মে (সিটিজি টাইমস)::  রাত সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৭টার আগেই শেষ হয়ে যায় মাছের আড়তের শোরগোল। উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এই মাছ আড়তে এই সময়ের মধ্যে লেনদেন হয় কমপক্ষে কোটি টাকা। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাছ ফের নানা স্থানে চলে যায় মূহুর্তের মধ্যেই। মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসদরের মাছের আড়তে বিকিকিনি চলে প্রতিদিন এই সময়ে।

স¤প্রতি ভোরে মাছের আড়তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নানা দৃশ্য। ব্যবসায়ীরা তুলে ধরেছেন নানা সংকট ও বঞ্চণার কথা। ক্ষোভের কথাও জানালেন একাধিক ব্যবসায়ী। নিয়মিত পৌরসদরে কর প্রদান করা হলেও আশানুরূপ কোন প্রতিদান পাচ্ছে না তারা।

লাইভ ফিশিং আড়তের সত্ত¡াধিকারী কামরুল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার প্রায় অর্ধশত আড়ৎ থেকে পৌরসভা প্রতি মাসে অনেক টাকা কর পায়। অথচ এখানকার সংকটগুলো পূরণে এগিয়ে আসছে না পৌরসভা। এখানে নেই নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নকর্মী, ড্রেনেজ, সুপেয় পানি, গণ-শৌচাগার। আবাসন সংকটও তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

দিদার ফিস সেন্টারের মালিক নাসির উদিন দিদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ব্যবসা করেও পৌর কর্তৃপক্ষকে বাড়তি কর দিতে হচ্ছে এখানকার আড়তদারদেরকে। অথচ পৌরসভার অন্য খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কর দিতে হচ্ছে না।’

সরেজমিনে কথা হয় আড়তের কর্মকর্তা প্রদ্যুৎ বিশ্বাসের (প্রদীপ বাবু) সঙ্গে। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ফকিরহাট, ফলতিতা, কেশবপুর, খুলনা, পয়লাহাট, বৃহত্তর কুমিল­া, ময়মনসিংহ, মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্প থেকে সর্বাধিক মাছ আসে বারইয়ারহাটের আড়তে। আড়তদারেরা নিলামের মাধ্যমে মাছ ক্রয় করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই আড়তে। প্রতিটি আড়তের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত জন শ্রমিক।

বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাছগুলো ক্রয়ের পর এবার শুরু হয় বিক্রির পালা। মাছগুলো ফের চলে যায় দূর-দুরান্তের বিভিন্ন বাজারে। পূর্বে নাজিরহাট, হাটহাজারী, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, দীঘিনালা, তবলছড়ি, খাগড়াছড়ি, মারিশ্যা, নারায়নহাট, গুইমারা; দক্ষিণে কর্ণেলহাট, মাদামবিবিরহাট, বাড়বকুন্ড, সীতাকুন্ড, বড় দারোগাহাট, আবুতোরাব, মিরসরাই; পশ্চিমে শান্তিরহাট, বাংলাবাজার; উত্তরে ফাজিলপুর, নবাবপুর, ছাগলনাইয়া, মুহুরীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা মাছগুলো ক্রয় করে নিয়ে যায়।

বাগেরহাট থেকে মাছ বিক্রি করতে আসা অশোক বলেন, তিনি রুই ও মৃগেল মাছ নিয়ে এসেছেন। ৩৮ মণ মাছ বিক্রি করেছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

কথা হয় শ্রমিক রবিউল হোসেন ও খোকন দাশের সঙ্গে। মিরসরাইয়ের টেকেরহাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল হোসেন বলেন, মাছের আড়তে কাজ করে যে অর্থ পান তা দিয়েই তার সংসার চলে। আর কুমিল্লা থেকে এসে এখানে কাজ করা খোকন দাশের পরিবারও একইভাবে চলে। সকাল ৮টার মধ্যে তাদের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় সারাদিন অন্য কাজেও নিযুক্ত হয়ে যায় অনেক শ্রমিক। বড় পরিবারের চাহিদা মেটাতে আড়তের পাশাপাশি অন্য কাজে জড়িয়ে যায় তারা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, মণপ্রতি ১৪টাকা হারে পৌরকর প্রদান করতে হয়। অথচ এখানকার সংকটগুলো অপূরণীয় থেকে গেছে। একাধিক আবেদনের পরও কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া আড়তে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ স্বল্প শিক্ষিত হওয়াতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে ততটা সচেতনও নয় তারা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত