টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে আরো নতুন ৯ থানা, স্থাপনের কার্যক্রম শুরু

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রাম জেলায় নতুন নয়টি থানা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বতন্ত্র একটি থানা স্থাপনসহ বড় থানাগুলোকে ভাগ করে আরো ৫টি থানা এবং অন্তত ৮টি তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ি স্থাপন করবে জেলা পুলিশ। এছাড়া জেলা থেকে কিছু অংশ নিয়ে নতুন ৪টি থানা বাড়াবে সিএমপি।

ইতোপূর্বে জেলায় নতুন ছয়টি থানা করার কথা চিন্তা করা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে নতুন পাঁচটি থানা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সিএমপির জন্য বাড়তি প্রায় ১ হাজার ২ শ’ এবং জেলা পুলিশের জন্য ৬ শ’ পুলিশের জনবল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী থানার সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাছাড়া জেলায় ফোর্সের সংখ্যা অপ্রতুল। যানবাহনের সংখ্যাও নগণ্য। তাই হাটহাজারি ভেঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা, রাঙ্গুনীয়া ভেঙ্গে দক্ষিণ রাঙ্গুনীয়া, রাউজান ভেঙ্গে দক্ষিণ রাউজান, সাতকানিয়া ভেঙ্গে সাঙ্গু থানা ও পটিয়াকে ভেঙ্গে কালারপোল থানার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাঁশখালী ভেঙ্গে থানা করার কথা চিন্তা করলেও পরে কিছু অসুবিধার কারণে তা বাদ দেয়া হয়েছে।

সিএমপি উপ কমিশনার সদর ফারুক আহেমদ বলেন, নগরীতে আমাদের এমন কয়েকটি থানা আছে যেগুলোর লোকেশন বসতি থেকে অনেক দূরে আবার জেলার থানার যে লোকেশন তাদের থেকেও দূরে। ওই জায়গাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীদের সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য ওই জায়গাগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা নতুন চারটি থানার প্রস্তাব করেছি। থানাগুলো হবে ভাটিয়ারী, কুয়াইশ, ফতেয়াবাদ ও শিকলবাহা।

স্বাধীনতার পর ১৪টি উপজেলায় ১৪টি থানা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ৪ বছর আগে শুধুমাত্র ফটিকছড়ি উপজেলায় ভূজপুর এবং মীরসরাই উপজেলায় জোরারগঞ্জ থানা স্থাপনের মাধ্যমে থানা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬টি করা হয়। ১৬ থানায় জনবল আছে আড়াই হাজার। বিশাল চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়ে এখন ৮০ লাখে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় সীমিত জনবল দিয়ে জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে নতুন আরো ৫ টি থানা স্থাপনের। নতুন থানা ছাড়াও জেলা পুলিশ কমপক্ষে আরও আটটি তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর ৬টি থানা নিয়ে শুরু হয়েছিল সিএমপির কার্যক্রম। ২০০০ সালের পর থানার সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত করা হয়। ২০১৩ সালে বাড়ানো হয় আরও ৪টি। কিন্তু থানা থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় নগরী ও জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকার মানুষ পুলিশি সেবা থেকে অনেকটা বঞ্চিত। তাই বর্তমানে মোট ১৬টি থানা নিয়ে চলা সিএমপি আরও চারটি থানা যুক্ত করতে চায়।

চট্টগ্রামে আরো নতুন ৯ থানা, স্থাপনের কার্যক্রম শুরু

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এবং জেলার হাটহাজারীর ১৬ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে সিএমপির প্রস্তাবিত ফতেয়াবাদ থানা। এই থানার মধ্যে থাকবে হাটহাজারী থানার ১১ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ৬,৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মাইজপট্টি ভবানিপুর,নেহালপুর, ১২ নং চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রাম, ফতেয়াবাদ, চৌধুরীহাট, বড়দিঘিরপাড়, লালিয়ারহাট, আমানবাজার, সিটি কর্পোরেশন ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড এবং ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের কিছু অংশ। এ থানার আওতায় থাকবে একটি ফাঁড়ি ও একটি পুলিশ বক্স।

সিএমপি প্রস্তাবিত দ্বিতীয় থানাটি হচ্ছে কুয়াইশ থানা। নগরীর চান্দগাঁও ও জেলার হাটহাজারী থানার ৪৩ বর্গকিলোমিটার অংশ নিয়ে গঠিত হবে নতুন এ থানা। হাটহাজারী থানার উত্তর মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বাথুয়া, কুয়াইশ, বুড়িশ্চর নেহালপুর আংশিক এবং চান্দগাঁও থানার ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের কিছু অংশ এ থানার মধ্যে পড়বে। থানার আওতায় থাকবে একটি ফাঁড়ি ও দুটি পুলিশ বক্স।

নগরীর আকবরশাহ ও জেলার সীতাকুণ্ড থানার ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হবে ভাটিয়ারি। আকবরশাহ থানার ছলিমপুর ইউনিয়নের আংশিক, সীতাকুণ্ড থানার ছলিমপুর ইউনিয়নের আংশিক, ভাটিয়ারী এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ থাকবে ভাটিয়ারী থানার অন্তর্ভুক্ত। এই থানার আওতায় থাকবে পুলিশের একটি তদন্ত কেন্দ্র।

প্রস্তাবিত চারটি নতুন থানার শেষটি হচ্ছে শিকলবাহা থানা। এই থানা স্থাপন করা হবে নগরীর কর্ণফুলী ও জেলার বোয়ালখালী এবং পটিয়া থানার ১৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে। এই থানার এলাকা হচ্ছে বোয়ালখালী থানার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড। বোয়ালখালী পৌর এলাকার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড। শাকপুরা ইউনিয়নের ১ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড। পটিয়া থানার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৪ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড। কুসুমপুরা ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড। কুলগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর অংশ ব্যতীত বাকি ৯টি ওয়ার্ড। ৭ নং জিরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অংশ মোহাম্মদনগর ও কটরপাড়া গ্রাম। শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ড এবং নগরীর কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড। থানার আওতায় গড়ে তোলা হবে তিনটি ফাঁড়ি এবং একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত