টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জাতীয় কবির জন্মদিন: আজ চট্টগ্রামে আসছেন রাষ্ট্রপতি

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (সিটিজি টাইমস)::  ‘মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত/ আমি সেইদিন হবো শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দলরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না…’

তিনি ছিলেন দ্রোহ ও প্রেমের কবি। জীর্ণতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন চির যৌবনের দূত। তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আজ বুধবার (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩, ২৫ মে) ঁ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এবছর মূল অনুষ্ঠান হবে চট্টগ্রামে। তাতে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ইতিহাস ও সময় সচেতন ছিলেন নজরুল। যার প্রভাব তাঁর লেখায় স্পষ্ট। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সর্বহারা বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন নজরুল। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্রময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

নজরুলের লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস’াও করেন। ধানমণ্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি দেওয়া হয়।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ চট্টগ্রামের এম এ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত থাকছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস রফিকুল ইসলাম ও জাতীয় কবির পৌত্রী খিলখিল কাজী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

এবছর জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সামপ্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতারোধে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে স্মারক বক্তব্য রাখবেন- নজরুল গবেষক আবুল মোমেন।

উদ্বোধনী আলোচনার পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটের আয়োজনে থাকবে ৩০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে গান পরিবেশন করবেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পীরা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে নজরুল ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও কুমিল্লার দৌলতপুরে স’ানীয় প্রশাসনের ব্যবস’াপনায় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে নজরুল ইনস্টিটিউট। কবির ছবি, পোস্টার ও বই প্রদর্শনীর আয়োজন করবে নজরুল ইনস্টিটিউট এবং বই প্রদর্শনী, পাঠ প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে গণগ্রন’াগার অধিদপ্তর।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্যভাবে উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে বিদেশে অবসি’ত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও।

যেসব জেলায় জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে না, সেসব জেলার জেলা প্রশাসকরা স’ানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগিতায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করবেন। জাতীয় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা সমপ্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি চ্যানেলগুলো।

বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দে বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন নজরুল। বাবা কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুনের এই ছেলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

মতামত