টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রোয়ানুর আঘাতে পতেঙ্গার ৪’শ পরিবার আকাশের নিচে

চট্টগ্রাম, ২৪ মে (সিটিজি টাইমস):: ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রামে পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সৈকত পল্লীর চার শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে বর্তমানে প্রায় ২ শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে সৈকত পল্লী জামে মসজিদ, ভুমিহীন বিদ্যা নিকেতন, বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সমবায় সমিতির কার্যালয়, বন্যায় ভেসে গেছে বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সৈকত পল্লীর সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবের ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখানে পৌঁছেনি কোন সরকারি ত্রাণ। চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগর সংলগ্ন এ উপকূলী এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের খবর পর্যন্ত নেয়নি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিররা। এমনই ক্ষোভের কথা জানান এখানকার খোলা আকাশের নীচে বসবাসকারী বাসিন্দারা

পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ ভূমিহীন সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক নিজাম খান  জানান, আমাদের সব শেষ, বন্যায় প্রায় ভুমিহীন ৩০ জন সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র, অনেকের সিডিএ আউটার রিং রোড প্রকল্পে সিডিএ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ কার্ড, গার্মেন্টস কর্মীদের আইডি কার্ড, ব্যাংকের প্রয়োজনীয় হিসাব পত্র, বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সমবায় সমিতির কাগজপত্র রক্ষা করা যায়নি। পাশাপাশি ১০ জন দোকানির কয়েক লক্ষাধিক নগদ অর্থ ও মালামালের ব্যপক ক্ষতি ছাড়াও অত্র এলাকার অসহায় মানুষের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অনেক জেলে পরিবারের মাছ ধরার জালসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভেসে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ি সমিতির আরেক নেদা মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সৈকত পল্লীতে বসবাসরত ২’শ পরিবার। সিডিএ আউটার রিং রোড প্রকল্পে সিডিএ কর্তৃক যারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল তারা এবং অন্যান্য পরিবারগুলো ধার দেনা করে বেঁচে থাকার আশায় শেষ সম্বল দিয়ে যে বাসস্থান গড়েছিল তা চোখের পলকেই শেষ। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকই পাগলপ্রায়। চোখের সামনে শেষ হতে দেখেছে তিলে তিলে গড়া পরিশ্রমের ফসল। কাউকে শান্তনা দেওয়ার মত কোন ভাষা আমার জানা ছিল না। বন্যার পানি যখন বেড়িবাধে তার আগেই আমি ভুমিহীন সৈকত পল্লীর সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। আমাদের উপর এত বড় একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ গেল আমরা বেঁচে আছি কি মরে গেছি তা কেউ খবর নেয়নি। তবে চট্টগ্রাম ১১ আসনের সাংসদ এম এ লতিফ এর পক্ষে ২২ মে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে নগদ ২ লাখ টাকা, ৩ টন চাউল, বস্ত্র বিতরণ, খাবার বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ এক হাজার টাকা, ১০ কেজি চাউল, শাড়ী লুঙ্গি দেওয়া হয়।

ব্যবসায়িদের এ নেতা আরো বলেন, গত ১ মে শ্রমিক দিবসে সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দিন আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভুমিহীন পরিবারদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে। পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সৈকত পল্লীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের সংযোগ দ্রুত দেওয়া হবে। আমরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেসবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম ১১ আসনের সাংসদ এম এ লতিফ, সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দিন কাছে আহ্বান জানাচ্ছি অতিদ্রুত বেড়িবাধের ব্যবস্থা করে বেড়িবাঁধ ভুমিহীন পরিবারদের পুণর্বাসন দিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত