টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফা নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

haldaচট্টগ্রাম, ১৯  মে (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় দ্বিতীয় দফায় আবারও নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প ও রুই জাতীয় মা মাছ। বুধবার রাত ১১টার পর থেকে হালদায় ডিম ছাড়তে শুরু করে কার্প জাতীয় (রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাইশ) মা-মাছ। ডিম সংগ্রহকারী, হালদা বিশেষজ্ঞ ও রাউজান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা প্রায় কয়েক’শ নৌকায় করে নদীতে ডিমের খোঁজে নেমে পড়েন। বুধবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে গতকাল বৃস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাঁরা নদীতে ছিলেন, তাঁরা মোটামুটি পরিমাণে ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে এর সবই নমুনা ডিম বলে জানিয়েছেন হালদা পাড়ের কাগতিয়া মাইজ পাড়া এলাকার বাসিন্ধা ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন। তবে আগামিকাল শনিবার পূর্ণিমায় মা মাছ মুল ডিম ছাড়বে বলে আসা করছেন তারা।

হালদা নদীর রাউজান কাগতিয়ার আজিমের ঘাট, খলিফার ঘোনা, পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, বিনাজুরী, সোনাইর মুখ, আবুরখীল, খলিফার ঘোনা, সর্ত্তাঘাট, দক্ষিণ গহিরা, মোবারকখীল, মগদাই, মদুনাঘাট, উরকিচর এবং হাটহাজারী গড়দুয়ারা, নাপিতের ঘাট, সিপাহির ঘাট, আমতুয়া, মার্দাশাসহ প্রায় ৩০-৩৫টি পয়েন্টে ডিম সংগ্রহ করা হয়। এর আগে গত ৭ এপ্রিল প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছিলো মা মাছ।

হালদা নদী হল কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। এটি প্রথিবীর একমাত্র জোয়ার ভাটার নদী যেখানে মাছেরা প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়তে আসে। ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসের দিকে মা-মাছ এসে অনুকৃল পরিবেশের জন্য নদীতে অপেক্ষা করতে থাকে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পযর্ন্ত যেকোন অমাবস্য বা পূর্ণিমার সময় মা-মাছ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার এই সময়কে স্থানীয় ভাষায় ’জো’ বলে। ‘জো’ এর বৈশিষ্ট্য হল অমাবস্যা বা পূর্ণিমাতে বজ্রসহ বৃষ্টি হবে এবং নদীপথে পাহাড়ী ঢল নামবে। ঢলের পানিতে নদীতে জোয়ার আসবে। পূর্ণভাবে ডিম ছড়ার কিছুক্ষণ আগে পরিবেশ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত কিনা তা যাচাইয়ের জন্য মা-মাছ পরীক্ষামূলকভাবে ডিম ছাড়ে। একে স্থানীয়রা নমুনা বলে। নমুনা দেখতে পেলেই জেলেরা মহাসমরোহে ডিম সংগ্রহ করে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত