টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ হাইকোর্টের

চট্টগ্রাম, ১৬ মে (সিটিজি টাইমস):: সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গণিত বিষয়ে দুটি সেটে উত্তরপত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ এনে এক শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।

সেই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত তার খাতা সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তিন দিনের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীর খাতা পূনর্মূল্যায়ন করে কেন নতুন করে ফল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং স্কুল পরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সঙ্গে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

গত ১১ মে সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। এরপর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকশ শিক্ষার্থী দেখতে পায়, তারা অন্য সব বিষয়ে এ প্লাস পেলেও শুধু গণিতে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। তাই গোল্ডেন এ প্লাস বঞ্চিত হয়েছেন তারা। ওই বোর্ডের গ ও ঘ সেট পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ।

তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ওই বোর্ডের অধীনস্থ ডা. খাস্তগীর সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৫ শিক্ষার্থী তাদের ও তাদের অভিভাবকরা গণিত খানা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে।

এ নিয়ে একটি জাতীয় ও কয়েকটি স্থানীয় দৈনিকে ১৩ মে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। যেই প্রতিবেদনে দেখা যায় বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান স্বীকার করেন যে, যেহেতু কম্পিউটারের মাধ্যমে নৈর্বত্তিক প্রশ্নপত্রের উত্তর মূল্যায়ন করা হয়, তাই কারিগরি ত্রুটি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তিনি আরো বলেছিলেন, গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আবেদনকারীদের ফলফল পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও এসব শিক্ষার্থীর কোনো সমস্যা হবে না।

তবে এরপর কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও খাতা পুনর্মূল্যায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

তাই সেসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী মায়িশা ফারজানা রবিবার হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত খাতা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত