টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আসলাম-কাণ্ডে নতুন চাপে বিএনপি!

bnp-aslamচট্টগ্রাম, ১৬ মে (সিটিজি টাইমস):: বিপত্তি যেন পিছু ছাড়ছে না বিএনপির। রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা দলটিকে এখন নতুন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পড়তে হচ্ছে নানামুখী চাপে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে দলটির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরীর কথিত বৈঠক নিয়ে বিব্রত দলের নেতাকর্মীরা।

আন্তর্জাতিক মহলে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিএনপির সুসম্পর্ক থাকলেও মোসাদের ওই এজেন্টের সঙ্গে বৈঠকের খবর দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফলে সবশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ।

খালেদা জিয়া স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছেন, তিনি আসলাম চৌধুরীকে ডেকে বিষয়টি জেনেছেন। তবে তিনি এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।

শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এটা দেশে-বিদেশে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। বিএনপি ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না এটা যেমন ঠিক, তেমনি ছবিকেও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।”

আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নে ওই নেতা বলেন, “তিনি (আসলাম) তো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে এমন বালখিল্যতা দেখানো ঠিক হয়নি। আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন, দেখা করছেন, অবশ্যই এটা আগে ভাবতে হবে। তবে শেষ পর‌্যন্ত কী হয় বলা মুশকিল।”

এদিকে বিএনপির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের সম্পর্কের অভিযোগ নাকচ করে দিলেও এ নিয়ে চিন্তা থামেনি দলটির শীর্ষ নেতাদের। আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপিকে নিয়ে ‘ভুল ম্যাসেজ’ যাওয়ার শঙ্কায় আছেন তারা। এ কারণে অভিযোগ নাকচ করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত না হয়ে কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বৈঠকের সংবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনের দূতাবাসে গিয়ে ইতিমধ্যে দলের বক্তব্য তুলে ধরেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

গত মার্চ মাসে ভারতে ইসরায়েলের সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে লায়ন আসলাম চৌধুরীর বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শুরুতে বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় না এলেও ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে বিএনপি।

এদিকে সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকারকে হটাতে বিএনপি ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করছে।

এরপর আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। ইতিমধ্যে তার বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধ্বাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি।

প্রসঙ্গত, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই বাংলাদেশের।

তবে সরকারের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বিএনপির।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আসলাম চৌধুরীর দায় বিএনপি নেবে না। আবার যেহেতু সে আমাদের দলের একজন কর্মকর্তা, তাই এ নিয়ে অবস্থান তুলে ধরতে হয়।”

বিএনপিতে যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে এমন বিতর্কের জন্ম দেয়ায় দলের মধ্যেও আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তার রাজনৈতিক ইতিহাস সামনে নিয়ে আসছেন। বিএনপিতে আসার আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।

অল্প সময়ের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপিতে এত বড় পদ পাওয়া নিয়েও এখন দলের মধ্যে নানা ধরনের কথাবার্তা চলছে। এই পদ পাওয়ার পেছনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কাজ করেছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসলাম চৌধুরী ডেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনেছেন। তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি হাস্যকর। তবে এটা নিয়ে যে অস্বস্তি নেই, তা বলা যাবে না।”

আর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির এক ফোঁটা সম্পর্কও নেই। কাজেই উদ্ভুত অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে এমনটা হলে জনগণ হয়তো কিছুটা বিশ্বাস করত।”

জমির উদ্দিন বলেন,“বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের হয়রানি আর তাদের ওপর চাপ তৈরি করা ছাড়া এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করি না।”-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত