টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের গৃহবধূ এ্যানির মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-Griho-bodo-picচট্টগ্রাম, ১৪ মে (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়ার ছামিদর কোয়াং গ্রামের গৃহবধু এ্যানি আকতারের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার পেছনের রহস্য নিয়ে মুখ খুলেছেন এলাকার মানুষ। এদিকে এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় দায়ী করে তার স্বামীসহ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। নিহত এ্যানির পিতা মুনসুর আলম মামলার বাদী। এ মৃত্যুর ঘটনার সংবাদ ও ছবি গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এ্যানির শাশুর বাড়ীতে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকাবাসিরা এ্যানির স্বামী নাছির ও তার পরকীয়া প্রেমিকা এক প্রবাসির স্ত্রীর নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছেন এ প্রতিবেদকের কাছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই পরকীয়া প্রেমিকা। কিন্তু ঘটনার পর থেকে নাছির ও ওই পরকীয়া প্রেমিকা ঘরে তালা দিয়ে পালাতক থাকায় নানা আলোচনা চলছে এলাকায়। তারা বলছেন তিনি যদি নাছিরের সাথে অনৈতিক কাজে জড়িত না থাকেন তাহলে পালালেন কেন? এলাকাবাসি বলছেন, নাছির আর এ্যানির সংসার পুড়িয়েছে নাছিরের ওই পরকীয়া প্রেমিকা। পরকীয়ায় আসক্ত এ্যানির স্বামী নাছির ফুল শয্যায়ও এ্যানির সাথে খারাপ আচরণ করে বলে প্রচার আছে।

চান্দগাও থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহাজাহান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার রাতে এ্যানির পিতা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আমরা মামলার প্রধান আসামী নিহত এ্যানির স্বামীকে গেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। তিনি আরো জানান, এ্যানি মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে শ্বাশুর বাড়ী রাউজানের নোয়াপাড়া ছামিদর কোয়াং আজিম ফকিরের বাড়ী থেকে বাপের বাড়ী কাপ্তাই রাস্তার মাথার ধুপপুল গোলাপের দোকানস্থ নিজ বাড়ীতে আসে। নিহত এ্যানির সাথে তার স্বামীর সর্ম্পক ভালো ছিলনা। স্বামী নাছির অমানুষিক নির্যাতন করতো এ্যানির উপর। নাছির তার বাড়ীর পার্শ্ববর্তি এক প্রবাসির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। ওই মহিলা সর্ম্পকেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, গত ১০ মে স্বামী নাছির এ্যানির বাপের বাড়ীতে আসে। তখন তাদের উভয়ের মধ্যে জগড়া বাঁধলে এক পর্যায়ে এ্যানি ঘুমের ২০ টি ঔষধ খেয়ে ফেলে। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এ্যানি।

এ প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টুটন মজুমদার বলেন, নাছিরের পিতার করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নাছিরকে আটকের পর ওই পরকীয়া প্রেমিকা মহিলাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এরমধ্যে নাছিরের স্ত্রীর মূত্যুর ঘটনায় বিষয় আরো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এ্যানি মারা যাওয়ার একদিন আগে পূত্রবধুকে নির্যাতন ও পরকীয়া প্রেমে আসক্ত নিজ পুত্র এ্যানির স্বামী নাছিরের বিরুদ্ধে তার পিতা বাদশা মিয়া বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছিল। তার একদিনপর এ্যানির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। সবার মুখে মুখে একটিই কথা এ্যানি খুব ভালো একটি মেয়ে ছিল। স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বামী নাছির ও নাছিরের পরকীয়া প্রমিকা এক প্রবাসির স্ত্রী। এদিকে এ্যানির শাশুর বাড়ীর পার্শ্ববর্তি বাসিন্দারা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, পূত্রবধু এ্যানিকে খুবই পছন্দ করতেন নাছিরের বাবা মা। কারন এ্যানিও শাশুর শাশুড়ীর যথেষ্ট সেবা যত্ন করতো। পূত্রবধুর অকালে চলে যাওয়ায় অসুস্থ বৃদ্ধ নাছিরের বাবা মা বার বার জ্ঞান হারান আর এর জন্য ছেলের বিচার প্রার্থনা করেন।

এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ছামিদর কোয়াং গ্রামের আজিম ফকিরের বাড়ীর ওমান প্রবাসি বাদশা মিয়ার ২য় পূত্র মোহাম্মদ নাছির (২৭) এর সাথে গত দুই বছর পূর্বে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় কাপ্তাই রাস্তার মাথার ধুপপুল গোলাপের দোকান নুর মোহাম্মদ সওদাগরের বাড়ীর মনসুর আলমের কন্যা এ্যানি আকতারের। বিয়ের পর থেকে স্বামী নাছির নববধু এ্যানি আকতার (১৮) কে নানা ভাবে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসতো। এমনকি নাছির বাসর রাতেও এ্যানির সাথে খারাপ আচরণ করেছে বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার ঘটনা তদন্তে সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ তাদের দুই বছরের ঘর সংসারে প্রায় সময় নাছির বাইরে রাত যাপন করে স্ত্রী এ্যানিকে মানসিক যন্ত্রণা দিতো। কারন হিসেবে স্থানীয় লোকজন বলেছেন, নাছির বিয়ের আগে থেকেই পার্শ্ববর্তি এক প্রতিবেশি প্রবাসির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পকে আসক্ত ছিল। আর বাবা মা বিষয়টি জেনে নাছিরকে ঘরমুখো করতে নাছিরকে বিয়ে করান। কিন্তু বিয়ের পর নাছিরের বখাটেপনা আরো বেড়ে যায়। প্রতি রাতেই পার্শ্ববর্তি ওই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ীতে রাত যাপন করতো। দিনের বেলায়ও একান্তে সময় কাটাতো ওই প্রবাসির স্ত্রীর বাড়ীতে। এতে নাছিরের স্ত্রী এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। হাজার বারন ও চেষ্টা করেও নিজ স্বামীকে ঘরমুখো করে ফেরাতে পারেন নি। স্ত্রীর প্রতি অবহেলার কারন ও প্রতিকার করতে গেলে নিজ মাতা পিতা ভাইয়ের উপরও নাছির ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ঘর থেকে বের করে দিবে বলেও হুমকি দেয়।

এতে অসহ্য হয়ে হয়ে গত ৯ মে পার্শ্ববর্তি প্রবাসির স্ত্রী নাছিরের পরকীয়া প্রেমিকা সেলিনা আকতারকে ১ নং আসামী ও নাছিরকে ২নং আসামী করে নিজ পুত্র নাছিরের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন পিতা মাথাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে মাতালামীসহ নানা অভিযোগ এনে রাউজান থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন নাছিরের পিতা বাদশা মিয়া। এর একদিন পর নাছিরের স্ত্রীর রহস্যজন মৃত্যু ঘটে। এতে এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। এসব পরকীয়া প্রেমের কারনে সংসার নষ্ট হওয়া প্রতিরোধে সমাজের সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে । না হয় পুরো সমাজ এসব অনৈতিক কাজে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করবে। জরে পড়বে এ্যানির মত আরো অনেক অসহায় নারীর জীবন।

মতামত