টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যে কারণে বাড়ছে বজ্রপাত

চট্টগ্রাম, ১৪ মে (সিটিজি টাইমস):  সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে প্রচুর বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানির সংখ্যাও বেড়েছে বহুগুণ। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারই বিভিন্ন অঞ্চলে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু মানুষ নয়, প্রায়ই বজ্রপাতে পশুপাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কিন্তু এত বজ্রপাত কেন হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের যৌগিক গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাসেও ঘটছে বজ্রপাত। একই সঙ্গে বড় হচ্ছে নিহতদের তালিকাও।

ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক ঘটনা স্বাভাবিক হলেও সম্প্রতি এর পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আর এই অস্বাভাবিকতার কারণ হচ্ছে বায়ুমণ্ডলে কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কালো মেঘ সৃষ্টির পেছনে বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফারের পরিমাণ বাড়াকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মে-জুন মাস কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুম হলেও ঝড় বা বৃষ্টিপাত ছাড়াই সামান্য বাতাসেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। বাতাসের প্রভাবে দ্রুতগতির কালো মেঘের মধ্যে ঘর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হওয়া ইলেকট্রনের প্রবাহ থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহকেই বলা হয় বিদ্যুৎ।

সাদা মেঘের উপাদানের অধিকাংশই জলীয়বাষ্প বা পানির কণা হয়। ফলে সাদা মেঘে ঘর্ষণের বা সংঘর্ষের ফলে যথেষ্ট ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় না। কিন্তু কালো মেঘে নাইট্রোজেন ও সালফার গোত্রের গ্যাসের পরিমাণ বেশী থাকায় দ্রুত গতির কারণে এ সব যৌগিক গ্যাসের মধ্যে সংঘর্ষে প্রচুর পরিমাণ ইলেকট্রনের সৃষ্টি হয়। আর এ সব ইলেকট্রন বাতাসের জলীয়বাষ্পের মাধ্যমে ভূমিতে চলে আসে এবং সৃষ্টি হয় বজ্রপাতের। বজ্রপাতের ইলেকট্রনগুলো যখন কোনো মাধ্যম না পায় তখন সেগুলো উঁচু স্থান বা ধাতব বস্তুতে আকর্ষিত হয়। তাই ঝড় বৃষ্টির সময় ফাঁকা জায়গায় মানুষ বা পশু থাকলে বজ্রপাতের ঘটনা তাদের উপরই ঘটে থাকে।

আকাশে যে মেঘ তৈরি হয় তার ২৫ থেকে ৭৫ হাজার ফুটের মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। এখানে যে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয় তার তাপমাত্রা ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। বজ্রপাতের গতিও প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার।

মতামত