টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রনির ষড়যন্ত্রে জামায়ত এজেন্টই দায়ী: নগর ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম, ১৩ মে (সিটিজি টাইমস):  নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির গ্রেপ্তার ও দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অস্ত্র আইনে মামলার পেছনে নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার কারোর হাত নেই দাবি করে, এর জন্য প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা জামায়াত-শিবির এজেন্টই দায়ী বলে মন্তব্য করেছে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রনির মুক্তির দাবিতে করা সংবাদ সম্মেলনে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘রনি ইস্যুতে নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা কারোর হাত নেই। তারা বরং ছাত্রলীগের অভিভাবক। ছাত্রলীগের সাথে তাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দু’জনই এক সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অান্দোলন সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রনির বিষয়টির জন্য প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসা থাকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্টরাই দায়ী।’

অারেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট হারুন রশিদ যে শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল তার প্রমাণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র থাকা অবস্থায় শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত শাহ আমানত হলে থাকতেন তিনি। যেখানে শিবির ছাড়া কেউ থাকতে পারতনা।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান অাহমেদ ইমু।

তিনি বলেন, ‘গত ৭ মে মির্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন চলাকালীন নূরুল আজিম রনি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিলেন এবং তিনি কখনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। ওই ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কোনো ধরনের গোলযোগ, অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে করেননি।’

‘বরং প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফলও ঘোষণা ওই কেন্দ্রে করা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি। এতে স্পষ্ট নূরুল আজিম রনিকে ছলে-বলে-কৌশলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার একটি ছক আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি-বিধানে লঙ্ঘনের কারণে কোনো অপরাধীর সাজা তিন, সাত বা এক মাসের বেশি হতে পারে না। চলমান ইউপি নির্বাচনে দেশের কোথাও এরকম নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কাউকে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একটি কথিত অপরাধের জন্যে দুই বছর সাজা দেওয়ার পরও রনিরর বিরুদ্ধে ভুয়া জব্দ তালিকা দিয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা বিধিসম্মত নয়। একজনকে সাজা দেওয়ার পর আরেকটি মামলা দায়ের করা উদ্দেশ্যমূলক।’

এটি ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রনি জামিনে বেরিয়ে এলেও অপর মামলায় তাকে আটক দেখানোর পাঁয়তারা করেছে প্রশাসন। রনি যে ষড়যন্ত্রের শিকার তা আরো সপষ্ট হয় যখন একজন সাব ইন্সপেক্টরের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে রনিকে সাজা দেয়া হয়।’

ইমু অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলায় বিজিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা তাদের সাথে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটকে সাক্ষী করা হয়নি। আমরা মনে করি ওই ম্যাজিস্ট্রেট আইন সম্পর্কে অবগত নন এবং প্রতিহিংসামূলকভাবে তিনি সরকারের নির্বাচন আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে রনিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-অর-রশিদের ‘শিবির কানেকশন’ ছিল উল্লেখ করে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-অর-রশিদ সিলেট থেকে এসে ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আইন অনুষদে ভর্তি হন। শুরুতেই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির অধ্যূষিত শাহ আমানত হলে ওঠেন। চবির তখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে তিনি শিবিরের ক্যাডার হিসেবেই চিহ্নিত ছিলেন এবং তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত চবি শিবিরের নেতা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর জব্বার সুজন, বান্দরবন ছাত্রলীগের সভাপতি কাউসার ফুয়াদ,খাগড়াছড়ি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.ফিরোজ, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তালে আলী, ইয়াসিন আরাফাত কচি, সৌমেন বড়ুয়া, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নোমান চৌধুরী, রুমেল বড়ুয়া রাহুল, শাহীন মোল্লা, নাইম রনি, একরামুল হক রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাগারিয়া দস্তগীর, রণি মির্জা, সুজন বর্মণ, গোলাম ছামদানি জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম খান, আমির হামজা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহিম জিল্লু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত