টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে পরকীয়ার বলি গৃহবধু এ্যানি

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-Griho-bodo-picচট্টগ্রাম, ১৩ মে (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের রাউজানে পূত্রবধুকে নির্যাতন ও পরকীয়া প্রেমে আসক্ত নিজ পুত্রের বিরুদ্ধে পিতা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার একদিনপর বাপের বাড়ীতে নির্যাতিত ওই পুত্রবধুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালচনা ও নানা গুঞ্জন। জানাগেছে, গত ১০ মে মঙ্গলবার দুপুরে বাপের বাড়ী ধুপপুল গোলাপের দোকানের বাড়ী ওই গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মনসুর আলম বাদী হয়ে চান্দগাও থানায় মামলা দায়ে করেছেন।

এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ছামিদর কোয়াং গ্রামের আজিম ফকিরের বাড়ীর ওমান প্রবাসি বাদশা মিয়ার ২য় পূত্র মোহাম্মদ নাছির (২৭) এর সাথে গত দুই বছর পূর্বে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় কাপ্তাই রাস্তার মাথার ধুপপুল গোলাপের দোকান নুর মোহাম্মদ সওদাগরের বাড়ীর মনসুর আলমের কন্যা এ্যানি আকতারের। বিয়ের পর থেকে স্বামী নাছির নববধু এ্যানি আকতার (১৮) কে নানা ভাবে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসতো। এমনকি নাছির বাসর রাতেও এ্যানির সাথে খারাপ আচরণ করেছে বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ তাদের দুই বছরের ঘর সংসারে প্রায় সময় নাছির বাইরে রাত যাপন করে স্ত্রী এ্যানিকে মানসিক যন্ত্রণা দিতো। কারন হিসেবে স্থানীয় লোকজন বলেছেন, নাছির বিয়ের আগে থেকেই পার্শ্ববর্তি এক প্রতিবেশি প্রবাসির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পকে আসক্ত ছিল। আর বাবা মা বিষয়টি জেনে নাছিরকে ঘরমুখো করতে নাছিরকে বিয়ে করান। কিন্তু বিয়ের পর নাছিরের বখাটেপনা আরো বেড়ে যায়। প্রতি রাতেই পার্শ্ববর্তি ওই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ীতে রাত যাপন করতো। দিনের বেলায়ও একান্তে সময় কাটাতো ওই প্রবাসির স্ত্রীর বাড়ীতে। এতে নাছিরের স্ত্রী এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। হাজার বারন ও চেষ্টা করেও নিজ স্বামীকে ঘরমুখো করে ফেরাতে পারেন নি। দিনের পর দিন স্বামী ছাড়া নিজ ঘরে চাপা কষ্ট সহ্য করে শাশুর শাশুড়ীর মন জয় করে দিন কাটিয়ে দিতো সহজ সরল গৃহবধু এ্যানি। এদিকে গত দুই মাস আগে স্বামীর এ নির্যাতন আর সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী এ্যানি বাপের বাড়ীতে চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর নাছিরের বাবা মা ও ভাই নাছিরকে পূত্রবুধু এ্যানিকে ঘরে আনতে চাপ সৃষ্টি করলেও নাছির এতে অনিহা প্রকাশ করে। স্ত্রীর প্রতি অবহেলার কারন ও প্রতিকার করতে গেলে নিজ মাতা পিতা ভাইয়ের উপরও নাছির ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ঘর থেকে বের করে দিবে বলেও হুমকি দেয়।

এতে অসহ্য হয়ে গত ৯ মে পার্শ্ববর্তি প্রবাসির স্ত্রী সেলিনা আকতারকে ১ নং আসামী ও নাছিরকে ২নং আসামী করে নিজ পুত্র নাছিরের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন পিতা মাথাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে মাতালামীসহ নানা অভিযোগ এনে রাউজান থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন নাছিরের পিতা বাদশা মিয়া।

এদিকে এ অভিযোগ দায়েরের পরদিন গত ১০ মে মঙ্গলবার সকালে নাছিরের স্ত্রী এ্যানি আকতার বাপের বাড়ী কাপ্তাই রাস্তার মাথা ধুপপুল গোলাপের দোকানের বাড়ীতে রহস্যজনকভাবে মারা যায়। গতকাল ১২ মে বুধবার সরেজমিন ঘটনা দতন্তে এ নিয়ে গৃহবধুর শাশুরবাড়ী রাউজানের নোয়াপাড়া ছামিদর কোয়াং গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গৃহবুধ এ্যানির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সবাই বলছে নাছিরের পরকীয়া, অবহেলা আর নির্যাতনের কারনে শান্ত শিস্ট একটি মেয়ে আজ অকালে ঝরে গেল। নাছিরের বাবা মাও নিজ পুত্রবধুর গুনের কথা এ প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরেন।
তারা বলেন, আমার ছেলে নাছির পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে ফুলের মত একটি মেয়ের জীবনটা নষ্ট করে দিলো। তার শাস্তি হোক সেটা আমরাও চাই। এদিকে যোগাযোগ করলে নিহত এ্যানির পিতা মনসুর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার মেয়েকে নাছির বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এসব বিষয় আত্মসম্মানের কথা ভেবে মেয়ে আমাদের কাছে কম প্রকাশ করতো। তারপরও আমরা খবর পেয়ে অনেক বার শালীশ বৈঠক করে সমাধান করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। বকে যাওয়া মেয়ে জামাই নাছিরকে ঠিক করতে পারিনি। তিনি বলেন, এক পার্যায়ে আমরা মেয়েকে নিজেদের বাড়ীতে নিয়ে আসি। এমতাবস্থায় গত ১০ মে সকালে আমি ও আমার স্ত্রী বেড়াতে গেলে নাছির আমাদের বাসায় এসে মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে চাঁন্দগাও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি কান্ন বিজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার মেয়েটা খুবই সহজ সরল স্বামী ভক্ত ছিল। কিন্তু আজ আমার মেয়ের জামাইয়ের জন্য মেয়েকে হারালাম। আমি এর বিচার চাই। আপনারা এর বিচার করুন। নিহত এ্যানির স্বামী নাছিরের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মতামত