টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় কন্যা সন্তান হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন: থানায় মামলা, সন্তান নিয়ে স্বামী উধাও

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১২ মে (সিটিজি টাইমস):  পর পর ৩ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে স্ত্রী। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় তালাক দেয়ার পাঁয়তারা করছে স্বামী। যৌতুকের দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলার পর স্বামী পলাতক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে আসছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মধ্যম সরফভাটা গ্রামে।

থানা ও আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০ বৎসর আগে সরফভাটা ইউনিয়নের মধ্যম সরফভাটা গ্রামের মেহেরিয়া নতুন বাড়ি এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্রে মৌলভী আবদুর রাজ্জাক (৫৫) সাথে পৌরসভার সৈয়দবাড়ি এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ আকতারের সাথে বিয়ে হয়। আবদুর রাজ্জাক এর আগে একটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ১ সন্তান হওয়ার পর কোনো সন্তান না হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শাহনাজকে ২য় বিয়ে করেন রাজ্জাক। কিন্তু ২য় বিয়ের পর ২য় স্ত্রীর গর্ভে পর পর ৩ সন্তান জন্ম দেন। একাধারে ৩ কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার পর স্বামী রাজ্জাক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ইতিমধ্যে ১ম স্ত্রীর গর্ভে ১ পুত্র সন্তান হওয়ায় ২য় স্ত্রীর প্রতি অবহেলা ও অযতœ বেড়ে যায়। রাজ্জাকের শ্যালক মো. সেলিমের প্ররোচনায় প্রথম স্ত্রী ও স্বামী আবদুর রাজ্জাক শাহনাজকে তালাক দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। রাজ্জাকের সাথে শাহনাজ সংসার করতে চাইলে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। শাহনাজ যৌতুক দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে স্বামী তাকে মারধর করে। এর মধ্যে ২য় স্ত্রীকে তালাক না দিলে ১ম স্ত্রী রওশন আরা বেগম স্বামী ঘরে আর আসবেনা বলে হুমকি দিয়ে সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ২য় স্ত্রীর বড় মেয়ে রাজু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঐদিন অন্য দুই সন্তানকেও নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ৮ এপ্রিল শাহনাজকে মারধর, যৌতুক দাবি ও বিভিন্ন অভিযোগে মামা আজিজুল হক রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একই অভিযোগে শাহনাজ আক্তার (৪৪) বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুন্যাল ও ৩০ এপ্রিল রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল জানান, শাহনাজ আক্তারের উপর নির্যাতনে ঘটনা সঠিক। আবদুর রাজ্জাক ও সেলিম খুবই খারাপ লোক। বিষয়টি মীমাংসার আমি একাধিকবার চেষ্ঠা করেছি। কিন্তু তারা বিভিন্ন ধরনের তাল বাহানা করে আসছিল।

রাঙ্গুনিয়া থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল জানান, থানায় দায়ের করা মামলায় ঘটনা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত