টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তদন্ত প্রতিবেদন: বাঁশখালীতে সংঘর্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে

চট্টগ্রাম, ১০ মে (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় ৩৪ দিন পর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের কাছে ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুর রশীদ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষের প্রাণ ও জানমাল রক্ষায় ওই দিন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গুলি করতে বাধ্য হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে বিশেষ মহলের রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ ওই গোষ্ঠী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্ষেপিয়ে তুলেছে স্থানীয় গ্রামবাসীকে। এর ফলে সৃষ্ট সংঘর্ষের দিন জনগণের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার জন্য গুলি চালানো ছাড়া পুলিশের আর কোনো উপায় ছিল না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিভ্রান্তি দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করাসহ বেশকিছু সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

প্রসঙ্গত, বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপের অর্থায়নে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকাবাসীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হন।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রশীদকে প্রধান করে জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনরঞ্জন দাস ও পুলিশ বিভাগের সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট তরিকুল ইসলামের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

ওই কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ৩৪ দিন পর প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি।

মতামত