টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হিমু হত্যায় ব্যবহৃত কুকুর নিয়ে বিড়ম্বনা

untitledচট্টগ্রাম, ০৬ মে (সিটিজি টাইমস)::  রাস্তায় যা পায় তা-ই খায় কুকুর। বাংলাদেশে কুকুরের জন্য তাই দরকার হয় না বিশেষ কোনো খাবারের। কিন্তু রটউইলার কুকুর একটু অন্যরকম। দেখতে সাধারণ কুকুরের মতো মনে হলেও আচরণে এরা ভয়ঙ্কর। কামড়ে মানুষও মেরে ফেলতে পারে এ কুকুর।

চট্টগ্রামের আলোচিত হিমাদ্রি মজুমদার হিমুকে হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছিল এ জাতের একটি কুকুরকে, আদালতের নির্দেশে যে কুকুরটির ঠিকানা এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। কুকুরটির জন্য প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি গরুর মাংস লাগে। পচা কিংবা বাসি নয়; মাংস হতে হবে একেবারে তাজা। হিমু হত্যার জন্য ব্যবহৃত এ কুকুরটির খাবার জোগাতে গিয়ে এখন বেকায়দায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কারণ প্রতি মাসে গড়ে ১২ হাজার টাকা করে বছরে এ কুকুরের পেছনেই খরচ ছাড়িয়ে যাচ্ছে লাখ টাকার ঘর।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর মো. রুহুল আমিন জানান, ‘আদালতের নির্দেশনামতে কুকুরটিকে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। কিন্তু এটি স্বাভাবিক কুকুরের মতো নয়। প্রতি মাসে শুধু খাবারের পেছনে কুকুরটির জন্য খরচ হয় ১২ হাজার টাকার চেয়েও বেশি। স্বাভাবিকভাবে চিড়িয়াখানায় কুকুর রাখা হয় না। এ কুকুরকে রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত চিকিৎসক মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ জাতের কুকুর অনেক বেশি হিংস্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের জন্ম জার্মানিতে। কুকুরটি তাজা গরুর মাংস ছাড়া আর কিছুই খেতে চায় না। চাহিদার তুলনায় মাংস কম হলে কুকুরটি সারাক্ষণ ঘেউ ঘেউ করে। তখন এটি আরও হিংস্র আচরণ করতে থাকে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ থানার একটি বাড়ির ছাদে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় সামার ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে। টানা ২৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে হিমু মারা যায়।

জানা গেছে, রটউইলার জাতের একটি কুকুর জার্মানি থেকে আনতে খরচ পড়ে এক লাখ টাকারও বেশি। তবে এখানে যদি এ জাতের কুকুর কেউ কিনতে চান তবে খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।-সমকাল

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত