টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী সরে দাঁড়িয়েছেন

worldচট্টগ্রাম, ০৫ মে (সিটিজি টাইমস)::   মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবশেষ একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জন কেসিকও প্রার্থী হওয়ার লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ইন্ডিয়ানা প্রাইমারিতে হারের পর টেড ক্রুজ সরে দাঁড়ানোতে কেসিকই ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।

ওয়াশিংটনে প্রচারণার সব কর্মসূচি বাতিল করে বুধবার সন্ধ্যায় নিজ রাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লড়াই থেকে নিজের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ওহাইও গভর্নর জন কেসিক।

ওহাইওর কলাম্বাসে নিজের সমর্থকেদের সামনে এক আবেগঘন বক্তৃতাও দেন কেসিক।

কেসিক বলেন ‘আমার নির্বাচনী প্রচারণা সব বাতিল করলেও আমার বিশ্বাসটাকে নতুনভাবে স্থাপন করেছি, আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি ঈশ্বর নিশ্চয়ই আমাকে সামনে এগিয়ে যাবার পথ দেখাবেন এবং আমার জীবেনের উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন। সবাইকে ধন্যবাদ আমাকে সমর্থন করার জন্য, ঈ্শ্বর আপনাদের সহায় হোন’।

জন কেসিক সরে দাঁড়ানোতে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মূল প্রতিপক্ষ টেড ক্রুজ নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড় থেকে সরে দাড়ানোর পর দলের সদস্যদের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন যে, হিলারি ক্লিনটনের মতো ডেমোক্রেট প্রার্থীদের পরাজিত করতে এবার তাদের মনোযোগ দিতে হবে।

যদিও কিছু সিনিয়র রিপাবলিকান বলেছেন, তারা কোনোভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করতে পারবেন না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন, যিনি ইন্ডিয়ানা প্রাইমারিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে হেরে গেছেন।

ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রার্থী হবার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ট্রাম্প নেতিবাচক প্রচারাভিযান চালিয়েছেন।

এদিকে ট্রাম্প যখন রিপাবলিকান দলের টিকিট পাওয়ার পথে তখন তাকে নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকে খোলামেলাভাবে তার বিরোধিতা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকান দলের সদস্যরা তাদের ভোটার নিবন্ধনের কাগজ পুড়িয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা করছেন। কেউ আবার ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকলেও দাবি করছেন, প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের খুবই প্রিয়ভাজন ট্রাম্প। তা ছাড়া বেশ কিছু রাজ্যে ও ভোটার ব্লকে ট্রাম্প খুবই অজনপ্রিয়- জরিপে তার প্রমাণ মিলেছে।

টেড ক্রুজের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘আমরা যদি ট্রাম্পকে মনোনীত করি, তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব … এবং আমাদের তা হওয়া উচিত।’

তবে সুর পাল্টেছেন ববি জিন্দাল। এবার রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন দৌড় থেকে শুরুর দিকে বসে যাওয়া লুজিয়ানার প্রাক্তন গভর্নর ববি জিন্দাল ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী হলেও মঙ্গলবার তিনি জানান, সাধারণ নির্বাচনে আমাদের তাকেই (ট্রাম্প) সমর্থন করতে হবে।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেস সেক্রেটারি অ্যারি ফ্লেইসচার এক কাঠি সরেস হয়ে বলেছেন, ‘যেকোনো দিন হিলারির বিরুদ্ধে আমি ট্রাম্পকেই ভোট দেব, যদিও ট্রাম্পের অনেক বিষয় আছে, যা আমি পছন্দ করি না।’

গত বছরের জুন মাসে রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে তিনি দুর্বল। কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, তিনিই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে বিজয়ী হবেন এবং প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন।

গত বছরের জুন থেকে এ বছরের মে পর্যন্ত- এই এক বছরে বিতর্কিত মন্তব্য করে মাঠ গরম রেখেছেন ট্রাম্প। মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, চীন-ভারত থেকে কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া, একদিনে আইএসের শিকড় উপড়ে ফেলা, ৯/১১ হামলায় সৌদি আরবের যুক্ত থাকার দাবি করা- এ রকম আরো অনেক বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গেছেন ট্রাম্প।

এসব নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তার ওপর ক্ষুব্ধ। আগের বারের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশসহ অনেকে তার বিরোধিতা করেছেন। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হলে এসব বিদগ্ধ রাজনীতিককে ট্রাম্প পাশে পাবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে অনেক রাজ্যে সিনেট নির্বাচনও হবে। রিপাবলিকান দলের সিনেটর পদপ্রার্থীদের অনেকে ট্রাম্পকে এড়িয়ে চলছেন। কারণ ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তার কারণে তাদের হারতে হতে পারে। এ ধরনের আরো হিসাব-নিকাষে ট্রাম্প পেছনে আছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা নিয়ে আগে থেকে মন্তব্য করার সুযোগ ট্রাম্পের জয়ের মধ্য দিয়েই বোধ হয় রুদ্ধ হয়ে গেছে। কারণ বেশিরভাগ নির্বাচন বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলাকালেই ছিঁটকে পড়বেন ট্রাম্প। কিন্তু তা হয়নি। তিনি এগোচ্ছেন দুর্বার, দুর্জেয় গতিতে।

মতামত