টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে প্রাণহানি, সাত দিনের প্রতিবেদন জমা হয়নি এক মাসেও

চট্টগ্রাম, ০৪ মে (সিটিজি টাইমস):: : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল সাত দিনের মধ্যে। কিন্তু এক মাসেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এদিকে এক মাসেও প্রাণহানির ঘটনার তদন্তে কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

গত ৪ এপ্রিল গণ্ডামারা ইউনিয়নের হাদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষের লোকজনের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় তিনটি মামলা করা হয়। দুটি মামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় তিন সহস্রাধিক ব্যক্তিকে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের নির্দেশে ঘটনার দিন রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তারের নির্দেশে একই রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। কোনো কমিটিই এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইলিয়াছ হোসেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল বিকেলে তিনি  বলেন, তদন্ত কমিটির শিগগির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যাননি।

গুলিতে নিহত আনোয়ারুল ইসলামের বড় ভাই গণ্ডামারা ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বদি আহমেদ বলেন, এক মাসেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্তেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। এ কারণে তাঁরা হতাশ। খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে নিরীহ আর কোনো গ্রামবাসীকে গুলিতে মরতে না হয়। তিনি বলেন, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তাঁরা নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

নিহত মর্তুজা আলীর বড় ছেলে মো. মানিক বলেন, ‘১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি। কিন্তু বাবাকে তো আর ফিরে পাব না। যারা আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।’

বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, পুলিশের গুলিতেই নিরীহ চার গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ১৫ মের পর তাঁরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েক দিন আগে বাঁশখালী থানায় যোগ দেওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত আছে।- প্রথম আলো

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত