টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বোয়ালখালীতে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই, আ.লীগে বিদ্রোহের দামামা

চট্টগ্রাম, ০১ মে (সিটিজি টাইমস):: ৫ম দফায় আগামী ২৮ মে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সাত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পাটি, বিএনপি ইতিমধ্যে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে আওয়ামীলীগে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্বতন্ত্রের ব্যানানের বিদ্রোহের দামামা বাজিয়ে প্রার্থীতা করছেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

সাত ইউপিতে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৬৫জন। এর মধ্যে গত ২৪ এপ্রিল দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার শাকপুরায় আবদুল মান্নান মোনাফ, সারোয়াতলীতে মো. বেলাল হোসেন, পোপাদিয়ায় এসএম জসিম, চরণদ্বীপে শামশুল ইসলাম, শ্রীপুর-খরণদ্বীপে মো. মোকারম, আমুচিয়ায় কাজল দে ও আহলা কড়লডেঙ্গায় আবদুল ওয়াদুদকে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।

এতে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিদ্রোহে দামামা বাজাতে শুরু করেছে।

দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতারা একজোট হয়ে মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে শ্রীপুর-খরণ দ্বীপে ইসমাইল হোসেন খোকন, সারোয়াতলীতে নুরুল আমিন, চরণদ্বীপে মো. ইউনুচ, পোপাদিয়া শামশুল আবেদীন তারেক ও শাকপুরায় প্রভাষক মহসীন চৌধুরীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে দাঁড় করিয়েছেন। এছাড়া কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রার্থীরা।

এছাড়া নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তৃনমূলকর্মী সমাবেশ, প্রতিনিধি সম্মেলন, বর্ধিত সভা করে চলেছেন। ফলে একই দলের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ কর্মী সমর্থকরা এর জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দীঘদিন ধরে কাউন্সিলিং না করাকেই দুষলেন। তারা বলেন, স্বজনপ্রীতি, অযোগ্য ব্যক্তি পদে থাকা ও দীর্ঘদিন ধরে কমিটির পদ আঁকড়ে ধরে সুবিধাবাদী নেতারা নিজ নিজ কর্মী সর্মথক নিয়ে বিস্তারলাভ করেছে। এর সুযোগে হাইব্রিড ও এককালের নামধারী নেতারা ফায়দা লুটতে বিভাজন সৃষ্টি করছে। এখন দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা একযোগ হয়ে মনোনীত প্রার্থী বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রের ব্যানারে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মনোনয়ন বঞ্চিতরা এক হয়ে সভা সমাবেশ করতে দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে তৃণমূলে এসব বিদ্রোহের শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে শীর্ষ নেতারা জানান, আগামী ১২ মে প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে দলীয় মনোনীত প্রার্থী পক্ষে কাজ করবেন বলে আশা বাদ ব্যক্ত করেন তারা।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দলীয় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ৩০ এপ্রিল উপজেলার সাত ইউপিতে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। শাকপুরায় শওকত আলী, সারোয়াতলীতে নুর মোহাম্মদ, পোপাদিয়ায় মেহেদী হাসান সুজন, চরণদ্বীপে মজিবত উল্লাহ মজু, শ্রীপুর-খরণদ্বীপে হাজী মো. ইকবাল, আমুচিয়ায়মুসলিম মিয়া ও আহলা কড়ল ডেঙ্গায় হামিদুল হক মান্নানকে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।

গত ২৯ এপ্রিল উপজেলার ৪ ইউপিতে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পাটি (জাপা)। শাকপুরায় বিকাশ চৌধুরী, সারোয়াতলীতে ইলিয়াছ মিয়া, পোপাদিয়ায় সমীর সরকার ও আমুচিয়ায় মুসলিম উদ্দিনকে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত