টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিএনপিতে আবার গ্রেপ্তার আতঙ্ক!

চট্টগ্রাম, ০১ মে (সিটিজি টাইমস):: বিএনপিতে বিশেষ করে দলের উচ্চপর‌্যায়ের নেতা ও বিএনপিপন্থী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্র’ মামলায় শফিক রেহমানের স্বীকারোক্তিতে আরো তিনজনের নাম এসেছে বলে পুলিশের দাবির পর এই আতঙ্ক বেড়েছে।

আতঙ্কে আছেন শফিক রেহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা। আর বিএনপির বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই ঘটনায় যে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে সরকার।

অথচ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলের জাতীয় সম্মেলনের পর এখন বিএনপির নতুন করে সংগঠিত হওয়ার কথা। তার বদলে নেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক।

গত ১৯ মার্চের কাউন্সিলের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতাদের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সচল হয়ে উঠছে বিএনপির নেতাদের অনেক পুরনো মামলা। এমনকি শুরুতে ওই সব মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও নতুন করে সেখানে কারও কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা সচল করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন দলের নেতারা।

গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অন্য আসামিরা হলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

একই দিনে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার আদেশের পরপরই নাশকতার পুরনো এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈদেশিক কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অপহরণ ও হত্যা চেষ্টা’ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

পরে ওই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাবন্দি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়।

এদিকে রিমান্ডে শফিক রেহমান আরো তিনজনের নাম বলেছেন্- পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটা দাবি করার পর বিএনপির নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল কারাগারে পাঠানো হয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ অরুণকে। সবশেষ গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ পলাতক ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এই মামলায় আসামির তালিকায় আছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা ছাড়াও চেয়ারপারসনের একাধিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, বিএনপির চার লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অন্তত ২৫ হাজার মামলা ঝুলছে। এসব মামলায় কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এখনো কারাগারে। জামিন নিয়ে বেরিয়ে এলেও দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার আতঙ্ক দূর হয় না।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা আবার বাসাবাড়িতে থাকা বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তাদের দাবি, সরকার নেতাকর্মীদের চাপে রাখতে নতুন করে মামলা সচল করছে। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করছে।

নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করেই সরকারের দমনপীড়ন বাড়ছে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান  বলেন,“সরকার মিথ্যা অভিযোগে বিএনপির নেতাদের হেস্তনেস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমরা এ ব্যাপারে সজাগ আছি।”

তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর মত একটু ভিন্ন।

তিনি বলেন, “যখনই জনগণের নিরাপত্তা, দেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গ আসে, তখনই সরকার তা আড়ালের চেষ্টা করে। যেমন তনু হত্যা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লুটের ঘটনা আড়াল করতে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের বিরুদ্ধে করা তথাকথিত মামলা সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।”-ঢাকাটাইমস

মতামত