টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে চিকিৎসকের অবহেলায় হাসপাতালের দরজায় প্রসব করলেন প্রসুতী

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

 চট্টগ্রাম, ৩০ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  ‘প্রসব বেদনা শুরু হলে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় স্ত্রীকে। চিকিৎসা ছাড়া দীর্ঘ ৪ ঘন্টা বেডে শুয়ে রাখার পর রিলিজ করে দেন ডাক্তার। বহু আকুতি-মিনতির পরও চিকিৎসা না দিয়ে রিলিজ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্তব্যরত নার্সদের বারবার বলার পরও একবারের জন্যও রোগীর সমস্য দেখার প্রয়োজন মনে করেনি। পরে রিলিজ হয়ে অর্থভাবে বসে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের গেটে বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়।’ আজ শনিবার সকালে সাংবাদিকদের অনেক দুঃখ্যের স্বরে এসব কথা বলেন সীতাকুণ্ড হাসপাতালে স্ত্রীর ডেলিভারী করতে আসা মুরাদপুর ইউনিয়নের বসরত নগর গ্রামের প্রসুতি খানু’র স্বামী মো. হারুন।

পরে প্রসব করা বাচ্চাকে বাচাতে উৎসুক জনতা হৈ-চৈ শুরু করার পর ডাক্তাররা নেমে এসে চিকিৎসা প্রদান করে প্রসুতি ও বাচ্চাকে সিটে রাখে। এ সময় ছবি তোলার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করে হাসপাতালের চর্তুথ শ্রেণীর কর্মচারীরা। কিছু অসাধূ ডাক্তারের প্রাইভেট হাসপাতালের যোগসাজশ করে সীতাকুণ্ড হাসপাতালের রোগীদের সাথে এ ধরনের আচরন করে থাকে বলে জানান উৎসুক জনতা। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার বিকাল ৩ টায় সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

স্থানীয় লোকজন আরো বলেন,‘ প্রাইভেট হাসপাতাল হতে মুনাফার আসায় চিকিৎসা না দিয়ে রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার বানিজ্য করে ডাক্তার ও নার্সরা। কিছু ডাক্তারের প্রাইভেট হাসপাতাল থাকায় তাদের মাধ্যমে এসব জঘন্য কাজ গুলো চলছে বলে জানান তারা।

কর্তব্যরত ডাক্তার উর্মি বলেন,‘ জরায়ু খুলছে না দেখে রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে জরায়ুর মুখ খুলে যাবে তা অনুমান করতে পারিনি। পরে গেইটে প্রসব হওয়া বাচ্চাসহ মাকে উপরে ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাচ্চা ও মা উভয় সুস্থ্য বলে জানান তিনি।

অথচ নতুন ভবনের ও ডাক্তার সংখ্য বৃদ্ধির সাথে প্রসুতির চিকিৎসায় সীতাকুণ্ড হাসপাতালে বসানো হয়েছিল সিজারের সরঞ্জম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রাংশগুলো পড়ে থাকলেও ব্যবহারের ব্যবস্থা নিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে চলেছে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল মোমেন বলেন,‘ বাচ্চা কখন প্রসব হবে তা বলা মুশকিল। রোগী ও বাচ্চার অবস্থা স্বাভাবিক না থাকার কারণে হইতো ডাক্তার রেফার করেছে।

মতামত