টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে জাহাজ দিচ্ছেন না মালিকরা

চট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিভিন্ন মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছে লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা।

সরকারের প্রস্তাবিত নতুন মজুরি হার মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করে লাইটার জাহাজ মালিকরা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সিরিয়ালে জাহাজ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে জাহাজ মালিকদের পণ্য খালাসে অনীহার ফলে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বহির্নোঙরের পণ্য খালাসের অচলাবস্থার অবসান হয়নি।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে নৌযান শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট স্থগিত করেন। কিন্তু এদিন সভার একপর্যায়ে জাহাজ মালিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন।

শ্রমিকদের নতুন মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা বুধবার থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের জাহাজ সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। জাহাজ মালিকদের এই অবস্থানের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মত প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য তাদের জাহাজ সিরিয়াল না দিলেও বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা মালিকদের নিজস্ব জাহাজগুলো চলছে এবং পণ্য খালাস ও পরিবহন করছে। জ্বালানি তেলের ট্যাংকারও চলছে সীমিত পর্যায়ে। বহির্নোঙরে সাতটি ক্লিংকার জাহাজ থেকে লাইটারিং চলছে। তবে বহির্নোঙরে অবস্থানরত ৬২টি মাদার ভেসেল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন বিসিভোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি খুরশিদ আলম বলেন, ‘শ্রমিকদের যে মজুরি হার নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাই আমরা সেটা তারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের জাহাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।’

এই জাহাজ মালিক বলেন, ‘সরকার-নির্ধারিত শ্রমিকদের বেতনকাঠামো কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যে পণ্য খালাস ও পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজগুলোর ৭০ শতাংশের ক্ষমতা ১২০০ টনের নিচে। প্রস্তাবিত মজুরি হার কার্যকর করলে যে খরচ বৃদ্ধি পাবে, তা পরিশোধ করতে গেলে এ ধরনের জাহাজগুলো বড় ধরনের লোকসানে পড়বে।’

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব চৌধুরী আশিক আলম বলেন, ‘আমরা এখন ধর্মঘটে নেই। সরকার আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে নীতিগতভাবে। কিন্তু এখন মালিকরা জাহাজ চালু রাখবেন কি না, সেটা তাদের ব্যাপার।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারের বৈঠকে ‘ক’ শ্রেণির নৌযান শ্রমিকদের মূল বেতন ১০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির শ্রমিকদের মূল বেতন সাড়ে ৯ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৯ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন। এরপর যাত্রীবাহী নৌযান ধর্মঘট ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে স্থগিত করা হয়।

মতামত