টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রতিদিন চাহিদা ২০ মেঘাওয়াট, সরবরাহ ৬-৭ মেঘাওয়াট

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  স্বরণ কালের ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। একে তো প্রচন্ড গরম তার উপর এমন লোডশেডিংয়ে মানুষের অবস্থান একেবারে কাহিল। চাহিদার তুলনায় ন্যূনতম বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মিরসরাইবাসী। অথচ দেশের মধ্যে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা মিরসরাই। বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করলে তারা জানান, লাইনে বৈদ্যুতিক সংস্কার কাজ চলছে। এটি নিত্যনৈমিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদুৎ সমিতি-৩ মিরসরাই এর এলাকা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। মিরসরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়নে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকলেও প্রতিদিন পাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। তিনি আরো বলেন, মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানী একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। যে প্ল্যান্টের মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রেড থেকে ২৫০ মেঘাওয়াট বিদুৎ সরবরাহ করা যাবে। পুরোপুরি উৎপাদনে না যাওয়াতে বিএসআরএম কোম্পানী তাদের এই কারখানার জন্য ৫০ মেঘাওয়াট বিদুৎ ব্যবহার করছে। এখন তারা যদি আমাদের তাদের প্ল্যান্ট ব্যবহার করতে দেয় তাহলে আমরা ২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রেড থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করবো। তাহলে মিরসরাই উপজেলায় বিদুতের লোডশেডিং থাকবেনা। এ বিষয়ে বিএসআরএম কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা প্ল্যান্ট ব্যবহারে দিতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, সীতাকুন্ডের বারআউলিয়া বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে যে লাইনে মিরসরাইতে বিদুৎ সরবরাহ হয় সেটার ধারণ ক্ষমতা ১২ মেঘাওয়াট। ক্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে ১২ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা। তার উপর লাইনের সংস্কার কাজ করায় ঘন্টার পর ঘণ্টা বিদুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে হাজার হাজার গ্রাহককে। এতে করে চরম বেকদায় রয়েছে বিদুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে প্রচন্ড গরমের কারণে পড়াশোনা করতে পারছে না কোমলমতি শিশুরা। অথচ আর কয়েকদিন পরে বিদ্যালয়গুলোতে সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা তোফায়েল হোসেন বলেন, মিরসরাইয়ের মতো এতবেশি লোডশেডিং আমি কোথাও দেখিনি। দিনে তো বিদুৎ থাকেনা তার উপর রাতে বিদুৎহীন থাকতে হচ্ছে। সারা রাত গরমের কারণে ঘুমনো সম্ভব হয়না।

বারইয়ারহাট সৈকত কনফেকশনারী’র সত্ত¡াধিকারী মকসুদুল আলম বলেন, এভাবে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু মকসুদ নয় এভাবেই হতাশায় ভুগছেন উপজেলার শত শত ব্যবসায়ী।

উপজেলা কাজী সমিতির উপদেষ্ঠা কাজী আতাউর রহমান খান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন ফ্রিজে থাকা মাছ ও মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাতে তার ১৯ মাসের একটা বাচ্চা গরমের কারণে ঘুমাতে পারছে না। একতো প্রচন্ড গরম। তার উপর ভয়াবহ লোড়শেডিংয়ের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টাও বিদুৎ থাকেনা। অথচ আমাদের পাশের উপজেলাগুলোতে ২৪ ঘন্টায় বিদুৎ সরবারহ থাকে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদুৎ সমিতি-৩ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মোঃ এমাজ উদ্দিন সরদার জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ পাওয়া না যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে শীঘ্রই তার সমাধান হয়ে যাবে। তবে কবে নাগাদ সমাধান হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত