টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জুলহাজ খুনের তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব জন কেরির

22_110692চট্টগ্রাম, ২৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: রাজধানীর কলাবাগানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল অফিসার ও ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তা ‍মুক্তমনা লেখক জুলহাজ মান্নান খুনের তদন্তে সহায়তা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে খুনের রহস্য উৎঘাটনে তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে ‘পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে ওবামা প্রশাসনের এই প্রভাবশালী ব্যক্তি বলেন,জুলহাজ ছিলেন ‘একজন আস্থাভাজন সহকর্মী, একজন প্রিয়তম বন্ধু এবং বাংলাদেশে ব্যক্তির মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার’।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, জুলহাজের হৃদয়ে ছিল বাংলাদেশের চেতনা এবং সহনশীলতা, শান্তি ও বৈচিত্র্যের সুরক্ষায় বাঙালির যে ঐতিহ্য তার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।

গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে মুক্তমনা লেখক ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে।তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।আর জুলহাজ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন। সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী ‘রূপবান’-এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, “ জুলহাজ ছিলেন সমকামী অধিকারের একজন সাহসী মুখপাত্র, যা মানবাধিকার এবং তার এ হত্যাকাণ্ড বর্ণনাতীত, অগ্রহণযোগ্য ও ক্ষমার অযোগ্য।বাংলাদেশে মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, শিক্ষক, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ শিকার জুলহাজ মান্নান।

লেখালেখি ও মত প্রকাশের জন্য বাংলাদেশে যারা ‘আসন্ন বিপদের মুখে’ তাদের আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জুলহাজ খুনের পর সোমবারের প্রেস ব্রিফিংয়েও তাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকার কথা জানান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। ‘প্রয়োজন অনুসারে ঘটনা ধরে ধরে’ বিষয়টি পররাষ্ট্র দপ্তর বিবেচনায় নিবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সজাগ’ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আগে যা বলেছি আবারও তা বলছি, বাংলাদেশের এগিয়ে চলার যে ইতিহাস তার সঙ্গে এটা (সহিংসতা) পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।তিনি বলেন, “একটি উদারপন্থি, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং এর জনগণ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশ যে গর্ব করত তা ছিল যৌক্তিক।”

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত