টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জব্বারের বলী খেলা: হেরে যেতে শামসুকে দিদার বলি’র অফার !

ছবিঃ অনুপম

ছবিঃ অনুপম

চট্টগ্রাম, ২৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: ঘড়ির কাটায় বিকেল চারটা পাঁচ মিনিট। চারদিকে হর্ষধ্বনি। কাঁপন ধরানো ঢাকঢোলের আওয়াজ। প্রতিযোগী-দর্শক সবার মাঝেই উত্তেজনা। এর মাঝেই বেজে উঠলো রেফারির বাঁশি। মঞ্চে শুরু হল এক জোড়া সুঠামদেহী বলীর লড়াই। ভাবছেন, টিভি চ্যানেলের রেসলিংয়ের বর্ণনা? না, এই লড়াই জব্বারের বলীখেলার, এ লড়াই ঐতিহ্যর।

আজ থেকে ১০৭ বছর আগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের তরুণ সমাজকে সংগঠিত করতে ও প্রেরণা দিতে যে বলীখেলার শুরু করেছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার। আজ তা শুধু চট্টগ্রাম নয় বরং সারা উপমহাদেশের ঐতিহ্যর ধারক হয়ে উঠেছে। বংশপরম্পরায় এ বলীখেলা এখনও সগৌরবে টিকে আছে। আধুনিক যুগে মিডিয়ার কল্যাণে এ খেলার প্রচার এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে। শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় ১২ বৈশাখ সোমবার (২৫ এপ্রিল) লালদীঘির মাঠে এবারও বসেছিল এই বলীখেলার আসর।

এর আগে ২৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড ধরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে এ দুই নবীন-প্রবীন বলীতে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। একবার দিদার বলী চেপে বসেতো, পরের বার শামসু বলী। লড়াইয়ের ফাঁকে ফাঁকে দু’জনে চলে বাকযুদ্ধ। কখনো অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ।

শামসু ও দিদার বলীর ওই ২৭ মিনিট ২১ সেকেন্ডের লড়াইয়ে বেশ কয়েকবার কানে কানে কথা বলতে দেখা গেছে এ দুই বলীকে। তাই বিজয়ের পর শামসুর কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো, কি এমন কথা হয়েছিলো দু’জনে বলীর মঞ্চে? জবাবে বোমা ফাটালেন শামসু!

তার দাবি, ‘বলীখেলায় হেরে যেতে ১৫ হাজার টাকার অফার দিয়েছিলো দিদার বলী। তাহলে অফার গ্রহণ করেননি কেন ? পাল্টা প্রশ্ন সাংবাদিকদের। ‘জব্বারের বলীখেলায় এর আগে আমাকে সুযোগ দেয়া হয়নি। প্রথম পাওয়া সুযোগ কোন ভাবে হাত ছাড়া হোক চাইনি’- জবাব চ্যাম্পিয়ন শামসু বলীর।

মতামত