টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘোষিত ফলাফলে গরমিল ! ফটিকছড়ির পাইন্দং এ ফলাফল স্থগিতর দাবী স্বতন্ত্র প্রার্থীর

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি  প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২৫ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটের সাথে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে ব্যাপক গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর নবী। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ওই ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত করে পূণ:রায় ভোট গ্রহনের লিখিত আবেদন করেছেন।

নুরুল বশর নবী আবেদনে উলে­খ করেন, কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটের ফলাফলে ৪ হাজার ৯০২ ভোট পেয়ে তিনি প্রথম হয়েছেন। অথচ তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫৯২ ভোট কম পাওয়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার হোসেন স্বপনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার হোসেন স্বপনের প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৩৫৭ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের নুরুল বশর নবীর প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৯৫৫।

কিন্তু কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের একীভূত বিবরণীতে কেন্দ্রের সাথে ফলাফলে গরমিল দেখা যায়।
বিশেষ করে আনারস প্রতীকের ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র দ. পাইন্দং রহমতিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তার প্রাপ্ত ভোট ৯৫৭। ধানের শীষ পেয়েছেন ৮৩ ভোট। যা কেন্দ্র ভিত্তিক দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুর রহমান ছিদ্দিকী নিশ্চিত করেন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল বিবরণীতে পাল্টে যায় সে চিত্র। ওই কেন্দ্রে তার(নবীর) প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয় ৮৩। ধানের শীষের স্বপনকে দেখানো হয় ৯৫৭ ভোট ।

অপর কেন্দ্র বেড়াজালী সরকারী প্রা.বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার শফিউল আজম সাক্ষরিত কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী নবী আনারস প্রতীকের পেয়েছেন ৫৬৮ ভোট। অপরদিকে ধানের শীষের স্বপন পেয়েছেন ২৯৫ ভোট। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল বিবরণীতে পাল্টে যায় সে চিত্রও !

ওই কেন্দ্রে তার(নবীর) প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয় স্বপনকে। অর্থাৎ ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোট ৫৬৮ আর আনারস পেয়েছেন ২৯৫ ভোট।

এ ব্যাপারে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর নবী বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কারচুপির বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তিনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা) আমাকে বলেন, ‘এটা উপর মহলের নির্দেশে হয়েছে’।

আমি প্রধান নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারও স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ফলাফল স্থগিত ও পূণ: গণনার আবেদন করেছি। কারচুপির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি গ্রহন করছি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাইন্দং ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসারদের দেওয়া ফলাফল অনুযায়ী একীভূত বিবরণী তৈরী করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আমার কাছে এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, আসলে তদন্ত করে দেখা হবে।’

মতামত