টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ভ্যাপসা গরম আর লোড়শেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৫  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :  ভ্যপসা গরম আর ভয়াবহ লোড়শেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মিরসরাই উপজেলার মানুষের জনজীবন। তীব্র দাবদাহে ভাইরাস জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ।

জানা যায়, টানা গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিং বাড়ায় এ অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরমে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন ভাইরাসজনিত বিভিন্ন রোগে। গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলায় শত শত মানুষ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগীকে চিকিৎসা নিয়েছেন সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো থেকে।

মিরসরাই উপজেলা কাজী সমিতির উপদেষ্টা কাজী আতার রহমান খান বলেন, একতো প্রচন্ড গরম। তার উপর ভয়াবহ লোড়শেডিংয়ের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টাও বিদুৎ থাকেনা। অথচ আমাদের পাশের উপজেলাগুলোতে ২৪ ঘন্টায় বিদুৎ সরবারহ থাকে।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ২০ মেঘাওয়াট। বরাদ্ধ ১৫ মেঘাওয়াট। কিন্তু বারআউলিয়া বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে যে লাইনে মিরসরাইতে বিদুৎ সরবরাহ হয় সেটার ধারণ ক্ষমতা ১২ মেঘাওয়াট। ক্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে ১২ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা। তার উপর লাইনের সংস্কার কাজ করায় ঘন্টার পর ঘণ্টা বিদুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে হাজার হাজার গ্রাহককে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়া-শোনায় সমস্যার পাশাপাশি চরম বেকদায় রয়েছে বিদুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বারইয়ারহাট সৈকত কনফেকশনারী’র সত্ত¡াধিকারী মকসুদুল আলম বলেন, এভাবে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু মকসুদ নয় এভাবেই হতাশায় ভুগছেন উপজেলার শত শত ব্যবসায়ী।

টানা গরমে উপজেলা সদরে কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। দিনে প্রচন্ড গরম আর রাতের শেষভাগে ঠান্ডা। এ অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ।

উপজেলার নিজামপুর কলেজ এলাকার জনতা ফার্মেসীর মালিক রুপম নাথ জানান, গত কয়েক দিনে টানা প্রচন্ড- খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে এলাকায় গরমজনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগব্যাধি বেড়ে গেছে। এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন ডাক্তারখানায় ভিড় করছেন। দু-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে রোগব্যাধি আরো বাড়বে।

অন্যদিকে উপজেলার মানুষ সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোতে সুচিকিৎসা না পেয়ে শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতারিত হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদুৎ সমিতি-৩ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মোঃ এমাজ উদ্দিন সরকার বলেন, বিদুৎ লাইনের সংস্কার কাজের কারণে মাঝে-মধ্যে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। এছাড়া আমাদের প্রায় ১শ ২০ মেঘাওয়াট বিদুৎ ঘাটতি রয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই বিদুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজ বলেন, গত কয়েক দিনের টানা গরমে ভাইরাসজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্ম, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন ভাইরাস রোগীর সংখ্যাই বেশি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রচুর ঠান্ড পানি, ঠান্ডা জনিত খাবার, স্যালাইন, শরবত, আখের রস, জুস, আইস ও মৌসুমি ফলফলাদি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মতামত